রিসর্ট ভাড়া না দেওয়া ও তোলাবাজির অভিযোগ, অভিষেক-ঘনিষ্ঠ সুমিত রায়ের বাড়িতে পুলিশের হানা

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বাড়িতে কড়া পদক্ষেপ করল পুলিশ। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাঁকে থানায় হাজিরার নির্দেশ দিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকেলে টালিগঞ্জ সংলগ্ন মহাবীরতলার একটি ঠিকানায় হানা দিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ সুমিত রায়ের বাড়িতে এই নোটিস ঝুলিয়ে দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বিষ্ণুপুর থানায় এক রিসর্ট মালিকের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এফআইআর রুজু করা হয়। ওই রিসর্ট মালিকের অভিযোগ, সেবাশ্রয় ক্যাম্পের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর রিসর্টটি আটকে রাখা হলেও কোনো ভাড়াও দেওয়া হয়নি।
শুধু ভাড়াবকেয়া য়ের অভিযোগই নয়, বরং ওই ক্যাম্প চলাকালীন প্রায় ২০ থেকে ২২ লক্ষ টাকা তোলাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন রিসর্ট মালিক। এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুমিত রায় এবং বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের নাম জড়িয়েছে। এই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই বুধবার বিকেলে সুমিতের ক্যানাল রোডের বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, এর আগেও পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার পুলিশ সুমিত রায়ের সন্ধানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হানা দিয়েছিল, তবে সেবার তাঁর দেখা মেলেনি। পুলিশের খাতায় দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক হিসেবে নাম রয়েছে এই নেতার।
জমি দুর্নীতি মামলা ও সরকারি আইনজীবীর চাঞ্চল্যকর দাবি
অন্যদিকে, বুধবারই কলকাতা হাইকোর্টে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে চলা একটি জমি দুর্নীতি মামলার শুনানি ছিল। শুনানিতে আদালতের কাছে চাঞ্চল্যকর দাবি করেন সরকারি আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর (BLRO) থেকে নথিপত্র কারচুপি বা ম্যানিপুলেশন করা হয়েছে এবং সেই তথ্য সরকারি পোর্টালেও আপলোড করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে জমির চরিত্র বদল করানো হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। আদালতের সামনে সরকারি আইনজীবীর দাবি, এই পুরো চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল হোতা হলেন সুমিত রায় এবং তাঁর নির্দেশেই সমস্ত বেআইনি কার্যকলাপ চালাতেন সুজয় হাজরা। বর্তমানে এই দুর্নীতি মামলার তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত।