এবার হাওয়া নয়, চার্জ দিতে হবে বলকে! ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘স্মার্ট’ বলের তাক লাগানো ফিচার

এবার হাওয়া নয়, চার্জ দিতে হবে বলকে! ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘স্মার্ট’ বলের তাক লাগানো ফিচার

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তির এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে ফিফা। এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রিওন্ডা’ (Trioanda) সাধারণ ফুটবল থেকে একেবারেই আলাদা, যা প্রযুক্তিগতভাবে অনেক বেশি উন্নত এবং স্মার্ট।

ট্রিওন্ডার বিশেষ প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য

  • মোশন সেন্সর চিপ: বলের ভেতরে প্যানেলের মধ্যে ১৪ গ্রাম ওজনের একটি উচ্চ-নির্ভুল ৫০০ হার্জ মোশন সেন্সর চিপ যুক্ত করা হয়েছে। এটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। বলের গতি, ঘূর্ণন, দিক পরিবর্তন এবং মাঠে খেলোয়াড়দের সাথে বলের প্রতিটি স্পর্শ রিয়েল টাইমে ট্র্যাক করতে এই চিপটি অত্যন্ত কার্যকর।
  • রিচার্জেবল ব্যাটারি: এই সেন্সরটি চালানোর জন্য বলের ভেতরে একটি রিচার্জেবল ব্যাটারি রয়েছে। একটি ছোট চার্জিং যন্ত্রের মাধ্যমে ম্যাচ শুরুর আগে বলটিকে সম্পূর্ণ চার্জ করতে হয়। একবার পুরোপুরি চার্জ করলে এটি টানা ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত সচল থাকে, যা বিশ্বকাপের একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ, অতিরিক্ত সময় এবং পেনাল্টি শুটআউটের জন্য যথেষ্ট।
  • স্মার্ট ট্র্যাকিং ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ: বলের এই চিপটি স্টেডিয়ামের ক্যামেরা সিস্টেমের সাথে সমন্বয় করে উন্নত ৩ডি ট্র্যাকিং করতে সক্ষম। এর ফলে অফসাইড, হ্যান্ডবল বা গোললাইনের মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেফারিরা অত্যন্ত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

নকশা ও তাৎপর্য

‘ট্রিওন্ডা’ নামটি এসেছে তিনটি ঢেউ থেকে, যা ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ—কানাডা, মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দেশ করে। বলের নকশায় এই তিন দেশের প্রতীকও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে:

  • কানাডা: ম্যাপল পাতার প্রতীক।
  • মেক্সিকো: ঈগলের প্রতীক।
  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: তারার প্রতীক।

এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ নকশার বলটি ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম দামি অফিসিয়াল বল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী, এই বলের মূল্য প্রায় ১৭৫ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬,৫০০ টাকার সমান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *