ইরানের পর এবার ওমান! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ‘উড়িয়ে দেব’

ইরানের পর এবার ওমান! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ‘উড়িয়ে দেব’

ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ওমানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত অবস্থান ও আন্তর্জাতিক জলপথের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে ওমান যদি ইরানের পক্ষাবলম্বন করে, তবে তার ফল ভালো হবে না বলে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ওমানের অবস্থান

হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকা বাঞ্ছনীয়। এই ইস্যুতে ওমানের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ওমান যদি সঠিক আচরণ না করে, তবে তাদের উড়িয়ে দেওয়া হবে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ওমান যদি ইরানের সঙ্গে কোনো প্রকার কৌশলগত সমঝোতায় গিয়ে হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তবে ওয়াশিংটন কোনো প্রকার সামরিক ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। ওমান নিজের নিরাপত্তা নিয়ে যে নিশ্চিন্তে আছে, তা ভুল ধারণা বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাত

ট্রাম্পের এই হুমকির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে:

  • পাল্টা হামলা: বুধবার রাত থেকেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন অভিযান চালানোর পর, তেহরানও এর পাল্টা জবাব দিয়েছে। কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান বোমাবর্ষণ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।
  • বিস্ফোরণ ও অস্থিরতা: বুধবার রাত ১টা ৩০মিনিটের পর বন্দর আব্বাস শহরের কাছে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই ঘটনার পর থেকেই ইরানি সেনা ও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
  • অভিযানের কারণ: মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করছিল ইরান। এই নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করতেই আমেরিকা এই সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

একদিকে ইরান ও আমেরিকার সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ এবং অন্যদিকে ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের নতুন হুমকি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না হলে পুরো অঞ্চল বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *