জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ ইস্রাফিল গ্রেপ্তার, এবার কি পুলিশের জালে ‘ফলতার পুষ্পা’?

ফলতায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতার আবহে এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন জাহাঙ্গির খান ঘনিষ্ঠ নেতা তথা বঙ্গনগর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইস্রাফিল চকদার। বুধবার গভীর রাতে ফলতা থানার হাসিমনগর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তোলাবাজি, মারধর ও ভোটদানে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এই নেতাকে বৃহস্পতিবার ডায়মন্ডহারবার এসিজেএম আদালতে তোলা হবে।
গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
গত ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের সময় হাসিমনগরের মহিলারা রাস্তা অবরোধ করে ইস্রাফিল চকদারের বিরুদ্ধে ভোটদানে বাধা ও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তুলেছিলেন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মহিলাদের শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখেই ফলতা বিধানসভার ভোট বাতিল করে দেয় এবং পরবর্তীতে সেখানে ফের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন এবং জাহাঙ্গির খানের জামানত জব্দ হয়।
জাহাঙ্গির ঘনিষ্ঠদের ধরপাকড় ও ‘পুষ্পা’ বিতর্ক
ইস্রাফিল চকদারের আগে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন জাহাঙ্গির ঘনিষ্ঠ তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি নেতা নাসির শেখ। ফলতা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের শ্রমিকদের কাছ থেকে তোলাবাজি, মজুরি বঞ্চনা ও ভয় দেখানোর অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে রামনগর থানা।
একের পর এক নেতার গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে ফলতার বিতর্কিত নেতা জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে, যাকে স্থানীয় রাজনীতিতে ‘পুষ্পা’ বলে কটাক্ষ করা হয়। ভোটের আগে থেকেই তিনি বেপাত্তা। হাই কোর্ট ইতিমধ্যে তাঁর রক্ষাকবচ তুলে নিয়ে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিলেও, তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে পুলিশি তদন্তের পরবর্তী লক্ষ্য কি জাহাঙ্গির খান, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে।