তীব্র গরমে সকাল ৯টার পর ডিম খাচ্ছেন, ডেকে আনছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

তীব্র গরমে সকাল ৯টার পর ডিম খাচ্ছেন, ডেকে আনছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

বাইরে এখন কাঠফাটা রোদ এবং পারদ ঘোরাফেরা করছে ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রির ঘরে। এই প্রাণঘাতী গরমে শরীরের প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতে বাঙালির অন্যতম ভরসা ডিম। সিদ্ধ, ভাজা, পোচ কিংবা হাফ বয়েল— পুষ্টিগুণে ভরপুর ডিম অনেকেরই প্রিয় খাবারের তালিকায় শীর্ষে থাকে। তবে এই হাঁসফাঁস গরমে ডিম খাওয়ার সঠিক সময় না জানলে তা স্বাস্থ্যের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে দেরিতে ঘুম থেকে উঠে সকাল ৯টার পর ভারী ডিমের ব্রেকফাস্ট করলে সোজা চিকিৎসকের কাছে ছুটতে হতে পারে।

বিপদের কারণ থার্মোজেনেসিস

বিজ্ঞান ও চিকিৎসা শাস্ত্রের পরিভাষায়, ডিমে প্রচুর পরিমাণে হাই প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। এই প্রোটিন হজম করতে শরীরের অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়, যাকে ‘থার্মিক এফেক্ট অফ ফুড’ (TEF) বা থার্মোজেনেসিস বলা হয়। কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাটের তুলনায় প্রোটিনের থার্মিক এফেক্ট প্রায় ২০% থেকে ৩০% বেশি। এর অর্থ হলো, প্রোটিন ভাঙতে গিয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। সকাল ৯টার পর থেকে যখন বাইরের রোদের তেজ ও তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, ঠিক তখনই ডিম খেলে শরীরের ভিতরের এবং বাইরের জোড়া তাপমাত্রার ধাক্কায় হজম প্রক্রিয়ার উপর মারাত্মক চাপ পড়ে। এর ফলে সারাদিন ধরে অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা এবং পেট ভারী হয়ে থাকার মতো অস্বস্তিকর সমস্যা দেখা দেয়।

সুস্থ থাকার সঠিক সময় ও নিয়ম

পুষ্টিবিদদের মতে, গ্রীষ্মকালে ডিমের সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ পেতে হলে সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যেই তা খেয়ে নেওয়া উচিত। এই সময়ে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা থাকায় চড়া রোদ ওঠার আগেই শরীর অনায়াসে প্রোটিন হজম করে নিতে পারে। স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ওয়েবএমডি’-র তথ্য অনুযায়ী, গরমের দিনে প্রতিদিন ১ থেকে ২টি ডিম খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ, তবে অতিরিক্ত ডিমের কুসুম খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ কুসুমে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে যা শরীরে সবচেয়ে বেশি তাপ উৎপন্ন করে।

পর্যাপ্ত জল না পানের কুফল

গরমে ডিম বা উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়ার পর অনেকেই পর্যাপ্ত জল পান করেন না, যা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। প্রোটিন বিপাকের পর শরীরে যে বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়, তা বের করে দেওয়ার জন্য কিডনির প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়। ডিম খাওয়ার পর সারাদিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার জল না খেলে মারাত্মক ডিহাইড্রেশন এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা অবধারিতভাবে দেখা দিতে পারে। তাই এই তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে কড়া রোদ ওঠার আগেই প্রাতরাশ সেরে ফেলা এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *