লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে পুরুষের নাম, এবার দলের দিকেই আঙুল তুললেন খোদ তৃণমূল নেতা!

রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে মুর্শিদাবাদে। নারী-কল্যাণের জন্য নির্দিষ্ট এই প্রকল্পের টাকা প্রতি মাসে এক পুরুষ তৃণমূল নেতার অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া এবং তা নিয়ে খোদ ওই নেতারই বিস্ফোরক বয়ান রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মুর্শিদাবাদের রাধারঘাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল নেতা রাকিবুল শেখের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা এখন তুঙ্গে।
প্রশাসনের উদাসীনতা ও দলের ওপর দায়
অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছিলেন রাকিবুল শেখ। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তিনি সম্পূর্ণ দায় চাপিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও নিজের দলের ওপর। রাকিবুলের দাবি, তাঁর অ্যাকাউন্টে এই টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি তিনি প্রথমে জানতেন না। পরবর্তীতে জানতে পেরে তিনি ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) অফিসে জানালেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি দলের কিছু সদস্য তাঁকে টাকা তুলে নিতে পরামর্শ দেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। একজন দলীয় নেতার মুখে প্রশাসনের অন্দরে অনিয়মের এমন স্বীকারোক্তি শাসকদলকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও প্রশাসনিক তৎপরতা
এই ঘটনার রেশ ধরে রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধীদের আক্রমণ তীব্র হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বহু অযোগ্য উপভোক্তা ভাতা পাচ্ছেন, যার মধ্যে অনেক তৃণমূল নেতার নামও রয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গোটা রাজ্য জুড়েই এই প্রকল্পের তদারকিতে বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতা রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে যে, উপভোক্তা তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ ক্রমাগত চলছে এবং ইতিমধ্যেই বহু অযোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সার্বিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
মুর্শিদাবাদের এই ঘটনার পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকেও পুরুষ ও ভুয়ো উপভোক্তাদের ভাতা পাওয়ার একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে। এর ফলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য এবং স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদের পক্ষ থেকে এখন পুরো প্রকল্পের একটি স্বাধীন অডিট বা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলা হচ্ছে। এই প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের অভিযোগ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ এবং সরকারের ভাবমূর্তির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।