আইনি বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, গুজরাতি সম্প্রদায়কে নিয়ে মন্তব্যের জেরে দায়ের হলো পুলিশি অভিযোগ

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কলকাতার ভবানীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘X’-এ (সাবেক টুইটার) গুজরাতি সম্প্রদায়কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এক ব্যক্তি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার আবহে এই ঘটনা নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সামাজিক সম্প্রীতি ও হিংসায় উসকানির অভিযোগ
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মে ২০২৬ তারিখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সামাজিক মাধ্যমে গুজরাতি সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে ‘গ্যাং’ শব্দটি ব্যবহার করেন। অভিযোগকারীর মতে, এই শব্দটি সাধারণত অপরাধ ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে এভাবে চিহ্নিত করা দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং সামাজিক সম্প্রীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল যদি ভিন্ন হতো এবং তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসত, তবে এই ধরনের মন্তব্য গুজরাতি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারত। এর পাশাপাশি, একই পোস্টে তিনি ভারত ইউনিয়নকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে তাঁর ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ থামানোর কথা বলেন, যা নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। সামগ্রিক বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে এবং প্রামাণ্য দলিল হিসেবে সাংসদের লোকসভা নির্বাচনের হলফনামাও জমা দেওয়া হয়েছে।
বহুমাত্রিক আইনি চাপ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই পুলিশি অভিযোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তিনি ইতিমধ্যেই অন্য একটি প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি। কলকাতার বাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত প্ল্যান জমা দেওয়ার জন্য কলকাতা পুরসভা তাঁকে একটি নোটিশ পাঠিয়েছে, যার জবাব দেওয়ার জন্য তিনি ১০ দিনের সময় চেয়েছেন। একইসঙ্গে, কিছুদিন আগেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় একটি ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক পরপরই প্রধান বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক সামাজিক ও আইনি অভিযোগ দায়েরের এই প্রবণতা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই অভিযোগের জেরে আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি এবং আইনি সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।