ভাঙড়ে পরাজয়ের জের, নিরাপত্তা বলয়হীন ক্যানিংয়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা শওকত মোল্লা

ভাঙড়ে পরাজয়ের জের, নিরাপত্তা বলয়হীন ক্যানিংয়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা শওকত মোল্লা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড় কেন্দ্রে পরাজয়ের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছিলেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা শওকত মোল্লা। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এবার তাঁর সমস্ত সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিল প্রশাসন। বুধবার রাতে তাঁর ‘জেড’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। কলকাতা ও জেলা পুলিশের দুটি পাইলট কার সহ ২৪ জন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীর যে বিশাল বহর সর্বদা তাঁর সঙ্গে থাকত, তা এখন অতীত। বারুইপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, শওকত মোল্লা বর্তমানে বিধায়ক পদ বা অন্য কোনও সরকারি পদে না থাকার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সুরক্ষাহীনতার কারণ

একসময়ের বাম আমলের দাপুটে মন্ত্রী আবদুর রেজ্জাক মোল্লার হাত ধরে রাজনীতিতে আসা শওকত মোল্লা ২০১১ সালে তৃণমূল জমানা শুরুর পর শাসকদলে যোগ দেন। পরবর্তীতে দলে তাঁর গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়েছিল নিরাপত্তার বহর। ছাব্বিশের মহারণে ভাঙড় কেন্দ্রে আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকির কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই মূলত অন্তরালে চলে যান শওকত। নির্বাচনের আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাঙড়ের জনসভা থেকে ঘোষণা করেছিলেন যে শওকতের নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়া হলে তিনি নিজের নিরাপত্তারক্ষী দিয়ে তাঁকে সুরক্ষা দেবেন। তবে ভোটের ফলপ্রকাশ এবং রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ল এই দাপুটে নেতার সুরক্ষাবলয়ে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

হঠাৎ করে সমস্ত নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়ার ফলে ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের এই হেভিওয়েট নেতা তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে আধিপত্য বজায় রাখা শওকতের এই নিরাপত্তা প্রত্যাহার শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সুরক্ষাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলল না, বরং ওই অঞ্চলে তাঁর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতার রাশ আলগা হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা বেষ্টনী থেকে বের হয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কীভাবে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখেন, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *