ন্যায়ালয়ের পবিত্রতা ভেঙে চুরমার, নিজের চেম্বারেই পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধৃত বিচারক!

বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল আমেরিকার এক ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট। খোদ বিচারকের চেম্বারেই দিনের পর দিন ধরে চলল অশালীন কার্যকলাপ। অবশেষে এক মহিলা পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়লেন ওই বিচারক। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক বিচার বিভাগে। কর্তব্যে চরম গাফিলতি এবং আদালত কক্ষের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপরাধে ইতিমধ্যেই ওই বিচারককে আজীবনের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে।
দিনের পর দিন অশালীনতা ও গোপন সম্পর্কের জের
তদন্তে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে ওই বিচারক এবং কর্তব্যরত মহিলা পুলিশ আধিকারিক এক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। কেবল সম্পর্কের গভীরতাই নয়, আদালতের কাজ চলাকালীন নিজের খাস চেম্বারকেই তাঁরা যৌন লালসা মেটানোর চারণভূমি বানিয়ে তুলেছিলেন। আদালতের কর্মীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অনৈতিক কাজের শব্দ ঘরের বাইরে পর্যন্ত আসত, যা সেখানে কর্মরত অন্যান্যদের জন্য চরম অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেছিল। সম্প্রতি এক আদালত কর্মী তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলার পর প্রধান বিচারপতির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ও কঠোর শাস্তি
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রধান বিচারপতির নির্দেশে সাতজন বিচারপতির একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় অভিযুক্ত বিচারক দোষ অস্বীকার করলেও, কমিটির পেশ করা অকাট্য রিপোর্টের সামনে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য হন। বিচারব্যবস্থার গরিমা নষ্ট করার শাস্তিস্বরূপ ওই বিচারককে বিচারবিভাগীয় কমিটির সমস্ত কাজ থেকে সারাজীবনের জন্য নিষিদ্ধ ও বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে, সরকারি দপ্তরে বসে এমন ঘৃণ্য আচরণের জন্য আদালতের সমস্ত সহকর্মীদের কাছে তাঁকে লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা প্রশাসনিক স্তরে নৈতিকতা ও নজরদারির অভাবকে আরও একবার বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।