শমীকের ‘ভাল তৃণমূল’ তত্ত্বে অস্বস্তি গেরুয়া শিবিরে, চরম আপত্তি জানালেন দিলীপ ঘোষ!

শমীকের ‘ভাল তৃণমূল’ তত্ত্বে অস্বস্তি গেরুয়া শিবিরে, চরম আপত্তি জানালেন দিলীপ ঘোষ!

বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে। একটি দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তৃণমূলের একাংশকে ‘ভাল’ বলে সার্টিফিকেট দেওয়া এবং তাদের জন্য বিজেপির দরজা খোলার ইঙ্গিত দেওয়ায় খোদ গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দলের রাজ্য সভাপতির এই লাইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করে পাল্টা সুর চড়িয়েছেন রাজ্যের বর্তমান হেভিওয়েট মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

বিগত কয়েক বছরে এ রাজ্যে দলবদলের সংস্কৃতি অত্যন্ত চেনা চবি। বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দল থেকে শাসক দলে আসার তাগিদ নেতাদের মধ্যে আরও বৃদ্ধি পাবে, এমনটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই আবহে শমীক ভট্টাচার্য জানান, কয়লা, বালি বা চাকরি চুরির মতো মারাত্মক দুর্নীতিতে জড়িতদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ থাকবে। তবে তৃণমূলের মধ্যে এখনও এমন বহু সৎ মানুষ আছেন, যারা ভয়ের কারণে মুখ খুলতে পারেননি বা প্রতিবাদ করে দলের রোষের মুখে পড়েছেন। এই ধরণের ‘ভাল’ তৃণমূলীরা যদি বিজেপির দরজায় কড়া নাড়েন, তবে তাঁদের দলে নেওয়ার বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ভাবা হবে।

দিলীপ ঘোষের তীব্র আপত্তি ও কর্মীদের ক্ষোভের আশঙ্কা

রাজ্য সভাপতির এই উদারপন্থী মনোভাবের ঠিক উল্টো দিকে হেঁটে তীব্র বিরোধিতা করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর সাফ বক্তব্য, তৃণমূলের কোনও লোককেই এখন বিজেপিতে না নেওয়াটাই সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বিগত দিনে দলের যে সাধারণ কর্মীরা অমানুষিক অত্যাচার সহ্য করেও দলের পাশে থেকেছেন, এখন প্রথম কাজ হলো তাঁদের দেখভাল করা। এই পরিস্থিতিতে আবার বাইরে থেকে, বিশেষ করে তৃণমূল থেকে লোক নিতে শুরু করলে দলের ভেতরে পুরনো ক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলা ফিরে আসতে পারে। তাই এখনই জল ঘোলা না করে পরিস্থিতি থিতিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পক্ষপাতী তিনি।

রাজনৈতিক প্রভাব ও নেটপাড়ার চর্চা

শমীক ভট্টাচার্যের এই ‘ভাল তৃণমূল’ তত্ত্বকে হাতিয়ার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ট্রোলের বন্যা বয়ে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপিতে যোগদানের জন্য তৃণমূলের বহু ছোট-বড় স্তরের নেতৃত্ব উন্মুখ হয়ে বসে রয়েছেন। কিন্তু দলের রাজ্য সভাপতির মন্তব্যের বিপরীতে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের এই কড়া ও স্পষ্ট মনোভাব প্রকাশ পাওয়ার পর, দলবদলের সেই জল্পনায় আপাতত বড়সড় ধাক্কা লাগল বলেই মনে করা হচ্ছে। দুই শীর্ষ নেতার এই মতপার্থক্য আগামী দিনে বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *