অবশেষে অবসান হলো জল্পনার, কর্নাটকের কুরসিতে এবার শিবকুমার

অবশেষে অবসান হলো জল্পনার, কর্নাটকের কুরসিতে এবার শিবকুমার

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া। তাঁর পরিবর্তে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন ডিকে শিবকুমার। বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে এক বিশেষ প্রাতঃরাশ বৈঠকে সিদ্দারামাইয়া নিজে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন এবং উত্তরসূরি হিসেবে শিবকুমারের নাম অনুমোদন করেন। বৈঠক শেষে বর্ষীয়ান নেতার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন শিবকুমার। এরপরই লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সচিবের হাতে নিজের পদত্যাগপত্র তুলে দেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী।

হাইকমান্ডের নির্দেশ ও ক্ষমতার হস্তান্তর

পদত্যাগের পর এক সাংবাদিক বৈঠকে সিদ্দারামাইয়া জানান, দুই দিন আগে কংগ্রেস হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে তাঁকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা মেনেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। দীর্ঘদিন কর্নাটকের মানুষের সেবা করার সুযোগ পাওয়ার জন্য আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই প্রবীণ নেতা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি কখনোই ক্ষমতার লালসা বা টাকার পেছনে ছোটেননি এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটি বড় অংশ সফলভাবে পূরণ করতে পেরেছেন।

রাজ্যসভার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও জাতীয় রাজনীতিতে যোগ দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সিদ্দারামাইয়া। দলীয় সূত্র মারফত তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো এবং কেন্দ্রীয় স্তরে বড় দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছেন। কর্নাটকের রাজনীতিতেই থিতু থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি জানান, রাজ্যের মানুষ তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছেন এবং বাকি থাকা আরও দুই বছর তিনি কর্নাটকের জনগণের জন্যই কাজ করে যাবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষমতার হস্তান্তর কর্নাটকের কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ বজায় রাখার একটি কৌশল। সিদ্দারামাইয়ার মতো জননেতার রাজ্য রাজনীতিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এবং শিবকুমারের মতো দক্ষ সংগঠকের হাতে শাসনভার তুলে দেওয়া—আগামী দিনে রাজ্যের শাসনব্যবস্থা ও দলীয় সংহতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে সরকারের গ্যারান্টি প্রকল্পগুলো সচল রাখা এবং বিরোধী শিবিরের আক্রমণ মোকাবিলা করাই এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *