বিনামূল্যে মহিলা বাস রাইড চালুর আগেই বাড়ছে উদ্বেগ, মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে পরিবহণ সংগঠনগুলি

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গণ পরিবহণ ব্যবস্থায় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটছে নতুন সরকার। আগামী ১ জুন থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের ঐতিহাসিক সুবিধা চালু হতে যাচ্ছে। সরকারের এই জনমুখী পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও সার্বিক পরিবহণ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত বেসরকারি পরিবহণ মালিকরা। এই পরিস্থিতিতে গণ পরিষেবার হাল ফেরাতে এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা। আলোচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সময় চেয়ে ইতিমধ্যেই একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়েছে পরিবহণ সংগঠনগুলির জোট।
সংকটে বেসরকারি পরিবহণ, ধোঁয়াশা কাটাতে নবান্নে চিঠি
জয়েন্ট ফোরাম অফ ট্রান্সপোর্ট অপারেটর্স (জেএফটিও)-এর তরফে অল বেঙ্গল বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতি, অনলাইন ক্যাব অপারেটর্স গিল্ড, সিটি সাবারবান বাস সার্ভিস, নর্থ বেঙ্গল প্যাসেঞ্জার্স ট্রান্সপোর্ট ওনার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি এবং পুলকার ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই আবেদন জানিয়েছে। তাদের একটি প্রতিনিধিদল নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতে ইচ্ছুক। সংগঠনগুলির দাবি, রাজ্যের রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি পরিবহণ ক্ষেত্রটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শাসনক্ষমতার রদবদলের কারণে নীতিগত স্তরে একাধিক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত দূর করা প্রয়োজন।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সম্ভাব্য প্রভাব
পরিবহণ মালিকদের প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পেট্রল ও ডিজেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি। স্কুলপড়ুয়াদের পুলকার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ক্যাব বা বাস পরিষেবা, সব ক্ষেত্রেই খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন অপারেটররা। সংগঠনগুলির মতে, একদিকে সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের ঘোষণা যেমন প্রশংসনীয়, তেমনই এর ফলে বেসরকারি পরিবহণ ব্যবসায় কী প্রভাব পড়বে তা খতিয়ে দেখা দরকার। সঠিক সরকারি সহযোগিতা ও ভর্তুকি না মিললে আগামী দিনে বেসরকারি বাস, পুলকার ও ক্যাব পরিষেবা সচল রাখা আসাম্ভব হয়ে উঠতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের দৈনিক যাতায়াতে। তবে পরিবহণ সংগঠনগুলির এই চিঠির প্রেক্ষিতে নবান্নের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।