তীব্র গরমে টাইম বোম হতে পারে আপনার এসি, বিপদ এড়াতে আজই দেখে নিন এই জরুরি বিষয়গুলি
চলতি মরশুমে কাঠফাটা গরমে স্বস্তি পেতে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি এখন ঘরে ঘরে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তবে সারাদিন এসি চালিয়ে ঘর ঠান্ডা করার পাশাপাশি এই যন্ত্রটির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অসতর্কতায় সাধের এসি যেমন অকেজো হতে পারে, তেমনই তা যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই সুরক্ষিত থাকতে এবং এসির সঠিক পারফরম্যান্স পেতে কিছু প্রযুক্তিগত দিক ও সতর্কবার্তা জেনে রাখা প্রয়োজন।
কপার নাকি অ্যালুমিনিয়াম, কেনার আগে কয়েল চেনা জরুরি
এসি কেনার সময় অনেকেই ব্র্যান্ড বা স্টার রেটিংয়ের দিকে নজর দিলেও ভেতরের কন্ডেন্সার কয়েলটি এড়িয়ে যান। বাজারে মূলত কপার বা তামা এবং অ্যালুমিনিয়াম কয়েলের এসি পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা জানান, কপার কয়েল খুব দ্রুত ঘর ঠান্ডা করতে সক্ষম এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই কয়েল লিক হলে সামান্য গ্যাসে ওয়েল্ডিং করেই সহজে সারিয়ে নেওয়া যায়। অন্যদিকে, অ্যালুমিনিয়াম কয়েলের দাম তুলনামূলক কম হলেও এটি নরম ধাতু হওয়ায় দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, একবার লিক হলে পুরো কয়েলটিই পাল্টাতে হয়। ফলে সামান্য টাকা বাঁচাতে গিয়ে অ্যালুমিনিয়াম কয়েল বেছে নিলে মাঝ-গরমে বড় ভোগান্তির আশঙ্কা থাকে।
সার্ভিসিংয়ের পরেও ঘর ঠান্ডা না হওয়ার মূল কারণ
অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সার্ভিসিং করানোর পরেও ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা হচ্ছে না। এই সমস্যার পেছনে মূলত পাঁচটি প্রধান কারণ কাজ করে। প্রথমত, এসির পাইপ লিক হয়ে রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস বেরিয়ে গেলে শুধু গ্যাস রিফিল করে লাভ হয় না, আগে লিক সারাতে হয়। দ্বিতীয়ত, ইভাপোরেটর বা কনডেন্সার কয়েলে জেদি ময়লা জমে থাকলে সাধারণ পরিষ্কারে কাজ হয় না, এর জন্য জেট পাম্প ওয়াশ প্রয়োজন। তৃতীয়ত, ভোল্টেজের ওঠানামার কারণে কম্প্রেসরের ক্যাপাসিটর খারাপ হয়ে গেলে কুলিং মোড অন হতে পারে না। চতুর্থত, ভেতরের থার্মোস্ট্যাট সেন্সর স্থানচ্যুত হলে এসি ঘরের তাপমাত্রা সঠিক বুঝতে পারে না। পঞ্চমত, ঘরের আয়তন ও রোদের তীব্রতা অনুযায়ী সঠিক টনের এসি নির্বাচন না করলে সারাদিন চালিয়েও কাঙ্ক্ষিত ঠান্ডা পাওয়া যায় না।
বিস্ফোরণের পূর্বলক্ষণ ও সুরক্ষার উপায়
টানা এসি চালানোর ফলে অনেক সময় বড় বিপদের ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে যেকোনো বড়সড় বিস্ফোরণের আগে এসি কিছু নির্দিষ্ট বিপদ সংকেত দেয়। যদি এসি থেকে হঠাৎ গরম হাওয়া বা ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়, পোড়া গন্ধ পাওয়া যায়, ভেতরের মেশিন থেকে বিকট শব্দ আসে অথবা এসি বারবার নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে এটি বড় দুর্ঘটনার পূর্বলক্ষণ। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার রাখা আবশ্যক। একই সঙ্গে আউটডোর ইউনিটে যাতে ঠিকমতো বাতাস চলাচল করতে পারে, সেদিকে নজর রাখা দরকার। ভোল্টেজের সমস্যা এড়াতে ভালো মানের স্টেবিলাইজার ব্যবহার করা এবং সারাদিন একটানা না চালিয়ে মাঝেমধ্যে মেশিনটিকে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। সামান্য এই সতর্কতা ও দক্ষ টেকনিশিয়ান দ্বারা নিয়মিত এসির স্বাস্থ্য পরীক্ষা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও বিপদ থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।