ধর্মের নামে ৩ হাজার কোটির মহা জালিয়াতি, অবশেষে ইডির জালে নোহেরা শেখ!

ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এক ভয়ঙ্কর নজির সামনে এল। শরিয়ত আইনের দোহাই দিয়ে এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে নিশানা করে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন ‘হীরা গ্রুপ অফ কো ম্পা নিজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা নোহেরা শেখ। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং হরিয়ানা পুলিশের এক যৌথ অভিযানে গুরুগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত এক মাস ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এই মূল অভিযুক্ত।
যেভাবে চলত জালিয়াতির কারবার
ইসলামী শরিয়ত আইন অনুযায়ী সুদ নেওয়া বা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা ‘হারাম’। ধর্মীয় এই স্পর্শকাতর বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে অনেক মুসলিম নাগরিক প্রথাগত ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা এড়িয়ে চলেন। নোহেরা শেখ মানুষের এই মানসিকতাকেই নিজের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। তিনি ‘হীরা গ্রুপ’ নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন এবং সম্পূর্ণ সুদমুক্ত ও শরিয়ত সম্মত বিনিয়োগের টোপ দেন। তদন্তকারীদের দাবি, এটি আসলে ছিল একটি সুপরিকল্পিত ‘পোঞ্জি স্কিম’। এই পদ্ধতিতে নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা তুলে পুরনো বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়া হতো, যা দেখে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হতেন। দেশের প্রায় ১.৭৫ লক্ষ বিনিয়োগকারী এই ফাঁদে পা দিয়ে আজ সর্বস্বান্ত।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও প্রভাব
এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলাটি দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সুপ্রিম কোর্ট নোহেরা শেখের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন খারিজ করে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু আইনি নির্দেশ অমান্য করে তিনি আত্মগোপন করেন। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইডি পদক্ষেপ গ্রহণ করে নোহেরা শেখ ও তাঁর আত্মীয়দের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। এই গ্রেপ্তারি দেশের আর্থিক সুরক্ষায় একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নোহেরার হেপাজতে পাওয়ার ফলে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম এবং আত্মসাৎ করা বিপুল অঙ্কের টাকার হদিশ পাওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে ধর্মের নামে চলা এই ধরণের ভূয়ো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের রমরমা অনেকটাই থিতিয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।