সবুজ প্রকল্পে কোটি টাকার নয়ছয়, আরামবাগে সোলার প্যানেলের ৪০ লক্ষ পকেটে পুর ইঞ্জিনিয়ার-সহ ধৃত ৩

পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ ‘গ্রিন সিটি প্রকল্প’। কিন্তু সেই পরিবেশবান্ধব প্রকল্পেও থাবা বসাল কাটমানি এবং কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। এবার সোলার প্যানেল বসানোর নামে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরামবাগ পুরসভার এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, ইলেকট্রিক্যাল সুপারভাইজার এবং এক ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতরা হলেন যথাক্রমে মানস কুন্ডু, কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় এবং স্বরভানু ঘোষ। তারা সকলেই পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মানুষ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহকুমাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
কাজ না করেই বিল পাস, অডিটে ফাঁস জালিয়াতি
তদন্তে জানা গেছে, আরামবাগ পুরসভার পূর্ববর্তী বোর্ডের আমলে গ্রিন সিটি প্রকল্পে মোট ৭ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১২টি স্কুলে সৌর প্যানেল (সোলার প্যানেল) বসানোর জন্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার বিল পাস করিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে স্কুলগুলোতে কোনো সৌর প্যানেল বসানোই হয়নি। সম্পূর্ণ কাজ না করেই ভুয়া বিলের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ পকেটেস্থ করা হয়। পরবর্তীতে পুরসভার গত বোর্ডের সময় হওয়া টানা তিনটি অডিট বা আর্থিক সমীক্ষায় এই নজিরবিহীন জালিয়াতির বিষয়টি খতিয়ানসহ ধরা পড়ে।
দুর্নীতির কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, প্রশাসনিক নজরদারির অভাব এবং ঠিকাদার-প্রশাসনের একাংশের অশুভ আঁতাতের কারণেই এত বড় আর্থিক তছরুপ সম্ভব হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার পালাবদলের পর এই ঘটনা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্নীতির প্রভাব স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ সুদূরপ্রসারী হতে পারে। একদিকে যেমন বর্তমান তৃণমূল নেতৃত্ব নিজেদের স্বচ্ছ প্রমাণ করতে পূর্ববর্তী বোর্ডের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবির একে হাতিয়ার করে বড়সড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিজেপির পক্ষ থেকে এই ধৃতদের ‘চুনোপুঁটি’ আখ্যা দিয়ে তৎকালীন পুর চেয়ারম্যানের মতো ‘রাঘব বোয়ালদের’ গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়েছে। ফলে আগামী দিনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।