তোলাবাজির কোটি টাকার প্রাসাদ ‘গ্যালাক্সি’, এবার পুলিশের খাঁচায় খড়দহের প্রভাবশালী নেতা প্রসেনজিৎ

হাবেভাবে তিনি যেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। হুমকি ও তোলাবাজির টাকায় খড়দহে তৈরি করেছিলেন প্রাসাদোপম ‘পি গ্যালাক্সি হাউস’। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। দীর্ঘদিনের তোলাবাজি, হুমকি এবং জলাজমি ভরাটের ভুরি ভুরি অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বন্দিপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা প্রসেনজিৎ সাহা। সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রহড়া থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করেছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি
এলাকার রাজনৈতিক ও স্থানীয় সূত্রের খবর, পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পদের ক্ষমতা খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই খড়দহ ও বন্দিপুর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছিলেন প্রসেনজিৎ। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের দু’ধারে বিস্তৃত জলাজমি বেআইনিভাবে ভরাট করে চড়া দামে বিক্রি করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের টাকাতেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন সাততারা হোটেলকে হার মানানো বিলাসবহুল প্রাসাদ ‘পি গ্যালাক্সি হাউস’। কাঠের দামি আসবাব, শৌখিন অন্দরমহলে মোড়া এই প্রাসাদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী এই বাড়িতে তল্লাশি চালালেও সে সময় তিনি ফেরার ছিলেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আইনশৃঙ্খলার প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের একাংশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে এই ধরনের বেআইনি সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বড়সড় রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নতুন সরকারের জমানায় দুষ্কৃতী দমনে পুলিশ প্রশাসন অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। প্রসেনজিতের এই গ্রেপ্তারির ফলে খড়দহ সংলগ্ন শিল্পাঞ্চল ও এক্সপ্রেসওয়ে চত্বরে তোলাবাজি এবং জমি মাফিয়াদের দাপট অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরবে এবং অবৈধভাবে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতায় লাগাম টানা সম্ভব হবে।