রাজমিস্ত্রি থেকে কোটিপতি পুরপ্রধান, বাদুড়িয়ার দীপঙ্করের রূপকথার উত্থানের আড়ালে শুধুই কি দুর্নীতি!

রাজমিস্ত্রি থেকে কোটিপতি পুরপ্রধান, বাদুড়িয়ার দীপঙ্করের রূপকথার উত্থানের আড়ালে শুধুই কি দুর্নীতি!

একসময়ের সাধারণ রাজমিস্ত্রি ও গাড়িচালক থেকে ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ এবং রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া— রূপালি পর্দার গল্পকেও হার মানিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের জীবনকাহিনি। তবে এই উল্কাগতির উত্থানের নেপথ্যে যে শুধুই প্রতিভার জোর ছিল না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে পুলিশি অভিযান। সম্প্রতি তাঁর পাটখেতের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয়েছে বস্তাভর্তি কোটি কোটি টাকা, যা বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

দুর্নীতির জালে রকেট গতিতে উত্থান

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে প্রথমবার বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান হন দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। এর ঠিক তিন বছর পর, ২০১৩ সালে তিনি দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন। মাঝে কিছু সময় বিরতির পর, ২০১৮ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর পুনরায় সেই পদ ফিরে পান তিনি। একসময় অভাবের সংসারে ইট-সিমেন্টের কাজ কিংবা পরের গাড়ি চালিয়ে যাঁর দিন চলত, রাজনৈতিক ক্ষমতা পাওয়ার পর থেকেই তাঁর আর্থিক গ্রাফ রকেট গতিতে বাড়তে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন এই পুরপ্রধান। এছাড়া জমি ও বাড়ির বেআইনি কারবারেও জড়িয়ে পড়েছিল তাঁর নাম।

পাটখেতে ‘গুপ্তধন’ ও ক্ষমতার অপব্যবহার

দীপঙ্করের এই বিপুল সম্পত্তির পাহাড়ের বাস্তব রূপ দেখা গেল যখন পুলিশ তাঁর বাটুলডাঙার বাড়ির কাছের একটি পাটখেতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে নগদ ২ কোটি ২৪ লক্ষ ৭ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংক কর্মীদের উপস্থিতিতে সারা রাত ধরে চলা গণনার পর এই বিপুল অঙ্কের হিসাব মিলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এলাকায় রীতিমতো ‘ত্রাস’ তৈরি করে রেখেছিলেন এই নেতা। সরকারি প্রকল্পের ঘর দেওয়ার নাম করে গরিব মানুষের কাছ থেকে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আত্মসাৎ করা হয়েছে। এমনকি নথিপত্র অপব্যবহার করে ভুয়ো চেকবুক বানিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ইতিপূর্বে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ভুক্তভোগীরা কোনো বিচার পাননি, উল্টো পুলিশি হেনস্তা ও প্রাণনাশের হুমকি সইতে হয়েছে বলে অভিযোগ। আপাতত এই বিপুল অর্থের উৎস সন্ধানে এবং আরও কোনো গোপন সম্পত্তির হদিস মিলতে পারে কি না, তা জানতে ধৃত পুরপ্রধানকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *