‘সঞ্জয় শুধু মুখ!’ অভয়া কাণ্ডে কারা আড়ালে? শান্তনুর বিস্ফোরক ইঙ্গিতে তোলপাড়

সঞ্জয় একা ছিল না এবং অভয়া কাণ্ডে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ থাকার দাবিতে তোলপাড় রাজনীতি! আর জি কর হাসপাতালের প্রাক্তনী তথা সদ্য পদত্যাগী তৃণমূল নেতা ডাক্তার শান্তনু সেনের এই বিস্ফোরক বয়ানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনার প্রায় দু’বছর পর ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্টের সূত্র টেনে তাঁর এই দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তদন্তে উত্তরবঙ্গ লবি ও প্রভাবশালীদের আঁতাত
সাক্ষাৎকারে শান্তনু সেন খোলাখুলি দাবি করেছেন যে, ঘটনার দিন মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় একা ছিল না, বরং তার সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত ছিল। ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ রিপোর্ট খুব ভালো করে খতিয়ে দেখেই তিনি এই বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। এই ঘটনায় তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ, চিকিৎসক-বিধায়ক ডাঃ সুদীপ্ত রায়, তৎকালীন অধ্যক্ষ ডাঃ সন্দীপ ঘোষ এবং আর জি করের কুখ্যাত ‘উত্তরবঙ্গ লবি’-র দিকে। তাঁর অভিযোগ, আর জি করের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান থাকাকালীনই তিনি সেখানে একটি ভয়ংকর আঁতাত ও আর্থিক দুর্নীতির আভাস পেয়েছিলেন, যা নিয়ে নবান্নের শীর্ষ স্তরে নালিশ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। উল্টে ‘হুইসল ব্লোয়ার’ বা সত্য প্রকাশকারী হওয়ার অপরাধে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর মেয়েকেও আর জি করে পড়াকালীন নানাভাবে হেনস্থা ও হুমকির শিকার হতে হয়।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে তৈরি হওয়া তীব্র অসন্তোষই এই ধরনের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তির প্রধান কারণ। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধেই শান্তনু সেনের এই ক্ষোভ প্রকাশ। এর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগেই তিনি দলের জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। অভয়ার মা-বাবার দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে এই ঘটনায় অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত, শান্তনু সেনের দাবি সেই অভিযোগকেই একপ্রকার সিলমোহর দিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আর জি কর মামলার ফাইল নতুন করে খোলায়, শান্তনু সেনের দেওয়া এই সমস্ত তথ্যপ্রমাণ এবং তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস আগামী দিনে প্রকৃত দোষীদের আড়াল থেকে সামনে আনতে এবং রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় ওলটপালট ঘটাতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।