মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার ছাড়তেই বড় ঘোষণা! দিল্লির রাজনীতিকেও কেন ‘না’ বললেন সিদ্দারামাইয়া?

কংগ্রেস হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ কন্নড় রাজনীতিক সিদ্দারামাইয়া। মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর হাইকমান্ডের তরফে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও, তা বিনম্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিদ্দারামাইয়া স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর কোনো উৎসাহ নেই, বরং তাঁর মূল মনোযোগ চিরকাল রাজ্য রাজনীতিতেই থাকবে।
ক্ষমতা বণ্টনের ফর্মুলা ও ইস্তফার কারণ
২০২৩ সালের মে মাসে কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের পর সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হয়েছিল। তবে সেই সময় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, পাঁচ বছরের মেয়াদের অর্ধেক সময় অর্থাৎ আড়াই বছর করে মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন সিদ্দারামাইয়া এবং ডিকে শিবকুমার। গত অক্টোবর মাসেই সিদ্দারামাইয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আড়াই বছর পূর্ণ করেন। এর পর থেকেই শিবকুমার শিবিরের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতির সম্মান রক্ষার দাবি জোরালো হতে শুরু করে। অবশেষে বৃহস্পতিবার দুই নেতার প্রাতরাশ বৈঠকের পর হাইকমান্ডের সেই ক্ষমতা বণ্টনের ফর্মুলা মেনেই রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন সিদ্দারামাইয়া।
কর্নাটক রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
সিদ্দারামাইয়া কর্নাটকের অত্যন্ত প্রভাবশালী অনগ্রসর ওবিসি (কুরুবা) জনগোষ্ঠীর নেতা। বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র দুই বছর বাকি থাকায়, ওবিসি ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে হাইকমান্ড তাঁকে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদ বেছে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সিদ্দারামাইয়াও রাজ্য রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার বার্তা দিয়ে সেই জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সিদ্দারামাইয়া প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্ব নিলে এবং তাঁর পুত্র যতীন্দ্র কর্নাটকের পরবর্তী মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে রাজ্যে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় থাকবে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি আরও দুই বছর বিধায়ক হিসেবে কর্নাটকের মানুষের সেবা করবেন এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখবেন।