মেসির যুবভারতী কাণ্ডে সৌরভের দাবিতে শতদ্রুর পাল্টা, স্মৃতির ধুলো ওড়ালো ইডেন বিতর্ক

কলকাতায় লিয়োনেল মেসির ঐতিহাসিক সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও সরগরম বাংলার ক্রীড়ামহল। যুবভারতীর বদলে ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠান হলে এমন লজ্জাজনক পরিস্থিতি এড়ানো যেত— এই বিষয়ে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক তথা সিএবি-র তৎকালীন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত একমত হলেও, ভেন্যু নির্বাচন নিয়ে দুজনের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। সৌরভের দাবির পাল্টায় শতদ্রু স্পষ্ট জানিয়েছেন, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় হয়তো পুরোনো দিনের কথা ভুলে গিয়েছেন।
সিএবি-র নির্বাচন ও ২৫ দিনের অপেক্ষা
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, ইডেনে মেসির অনুষ্ঠান করার জন্য তিনি নিজে শতদ্রুকে বলেছিলেন। ইডেনের ঐতিহ্য ও বড় ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি জানান, সিএবি-র তরফে কোনো আপত্তি ছিল না এবং উদ্যোক্তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের কারণেই অনুষ্ঠানটি যুবভারতীতে স্থানান্তরিত হয়। সৌরভের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই এবার মুখ খুলেছেন শতদ্রু দত্ত।
শতদ্রুর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি শুরুতেই সিএবি-র দ্বারস্থ হয়েছিলেন এবং ইডেনেই অনুষ্ঠানটি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় সিএবি-র অভ্যন্তরে নির্বাচন চলায় সংস্থাটি তাঁকে তাৎক্ষণিক অনুমতি দিতে পারেনি। মেসির ‘গোট ট্যুর’-এর আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য ভেন্যুর চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক ছিল। ফলে ২৫ দিন অপেক্ষা করার পর, নিরুপায় হয়েই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসকে জানিয়ে যুবভারতীতে অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
যুবভারতীর সেই কালো দিন ও রাজনৈতিক প্রভাব
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসির আগমনকে কেন্দ্র করে চরম অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়। মাঠে মাত্রাতিরিক্ত ভিড়, ছবিশিকারিদের দাপট এবং অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ সামলাতে ব্যর্থ হয় প্রশাসন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে স্বয়ং এনএসজি কমান্ডোরা মেসির নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খান। এর পরেই উত্তেজিত জনতা গেট ও রেলিং ভেঙে মাঠে ঢুকে ভাঙচুর চালায়।
এই কেলেঙ্কারির জেরে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে পদত্যাগ করতে হয় এবং উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে যেতে হয় জেলে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামিনে মুক্ত শতদ্রু এখন আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটেছেন। তিনি তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী, পুলিশ প্রশাসন ও বেশ কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শতদ্রুর দাবি, ভিভিআইপিদের অতিসক্রিয়তা এবং বিনা অনুমতিতে লোক ঢোকানোর ফলেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ পুড়েছিল, যার দায় কোনোভাবেই উদ্যোক্তাদের নয়।