দলে ‘রোগ’ সারাতে দিচ্ছে না ‘কম্পাউন্ডাররা’! তৃণমূলের মুখপাত্র পদ ছাড়লেন অরূপ চক্রবর্তী

দলে ‘রোগ’ সারাতে দিচ্ছে না ‘কম্পাউন্ডাররা’! তৃণমূলের মুখপাত্র পদ ছাড়লেন অরূপ চক্রবর্তী

তৃণমূলের মুখপাত্র পদ থেকে ইস্তফা অরূপ চক্রবর্তীর, নেপথ্যে কি কেবল ব্যক্তিগত কারণ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে দলের অভ্যন্তরে একপ্রস্থ ভাঙনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। বুধবার কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলের অন্যতম পরিচিত মুখ অরূপ চক্রবর্তী দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বরাবরই সরব থাকা এই নেতা অতীতে বিজেপির কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

দলের অন্দরেই ‘কম্পাউন্ডার’ তত্ত্বের ইঙ্গিত

মুখপাত্রের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে অরূপ চক্রবর্তী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ব্যক্তিগত কারণ’-কে সামনে আনলেও, তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি সরাসরি দলের অন্দরের একটি বিশেষ অংশকে দায়ী করেছেন। অরূপের দাবি, দলের নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে তিনি আপসহীন থাকলেও, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ভুল পরামর্শের কারণে তৃণমূল আজ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নিজের বিস্ফোরক মন্তব্যে তিনি ‘ডাক্তারবাবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’ এবং তাঁর চেম্বারের বাইরের ‘কম্পাউন্ডারদের’ রূপক ব্যবহার করেছেন। চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের উদাহরণ টেনে তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু স্বার্থান্বেষী নেতা বা তথাকথিত ‘কম্পাউন্ডার’দের ভুল পরামর্শ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত দলের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। তাঁর মতে, এই গোষ্ঠীটিই দল পরিচালনাকে ভুল পথে চালিত করে সাধারণ মানুষের থেকে তৃণমূলকে দূরে ঠেলে দিয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

অরূপ চক্রবর্তীর এই আকস্মিক পদত্যাগ এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগার বিষয়টি তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়াল। নির্বাচনের পর দলের ভেতরে চলা এই গোষ্ঠীদ্বন্দ ও ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক মহলে বড় ধরণের পরিবর্তনের জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দুর্দিনে যে কম্পাউন্ডাররা দলটিকে মিসগাইড করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁরা এখন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আড়ালে সরে যাচ্ছেন বলেও অরূপ দাবি করেছেন। এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি পদত্যাগ নয়, বরং দলের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ ও পরামর্শদাতাদের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *