গ্রেফতারিকে বেআইনি দাবি করে হাইকোর্টে সুজিত বসু, চরম অস্বস্তিতে ইডি?

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তলব থেকে শুরু করে গ্রেফতারি—গোটা প্রক্রিয়াকেই সম্পূর্ণ বেআইনি দাবি করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা সুজিত বসু। তদন্তকারী সংস্থার এফআইআর (ইসিআইআর) দায়ের, ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ এবং শেষ পর্যন্ত গ্রেফতারির প্রতিটি পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি এই মামলা দায়ের করেছেন। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর ১৯(১) ধারা অনুযায়ী গত ১১ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শুক্রবারই উচ্চ আদালতে এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
টাকা নয়ছয় ও নিয়োগ দুর্নীতির যোগ
তদন্তকারী সংস্থা ইডির দাবি, পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী বা ‘বেনিফিশিয়ারি’ হলেন সুজিত বসু। এর আগে এই দুর্নীতিতে গ্রেফতার হওয়া অয়ন শীলের অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কাঁচরাপাড়া, কামারহাটি এবং দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক চাঞ্চল্যকর নথি উদ্ধার হয়। ইডির অভিযোগ, বেআইনি নিয়োগের বিনিময়ে প্রাক্তন এই মন্ত্রী একাধিক ফ্ল্যাট ও কোটি কোটি টাকা নগদ সংগ্রহ করেছেন এবং পরবর্তীতে সেই অর্থ বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংস্থায় খাটানো হয়েছে। দীর্ঘ টানাপড়েন ও জিজ্ঞাসাবাদের পর এই আর্থিক নয়ছয়ের তথ্য সামনে রেখেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই একের পর এক হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারিতে শাসক শিবিরের ওপর চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পর এবার সুজিত বসুর নাম এই তালিকায় যুক্ত হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠমহল ও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ এবং আইনের অপব্যবহার বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হাইকোর্টে এই মামলার গতিপ্রকৃতির ওপর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করছে, কারণ কেন্দ্রীয় সংস্থার সক্রিয়তা বনাম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার লড়াইয়ে এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।