ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় তোলপাড় রাজ্য, এসআই থেকে পঞ্চায়েত প্রধান একঝাঁক হেভিওয়েট ধৃত

ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় তোলপাড় রাজ্য, এসআই থেকে পঞ্চায়েত প্রধান একঝাঁক হেভিওয়েট ধৃত

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমনে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পরপরই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন যে, কোনও ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম বা বেআইনি কাজকর্ম বরদাস্ত করা হবে না। এই কড়া বার্তার পরেই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের পুরনো মামলায় রাজ্য জুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। গত কয়েকদিনে কলকাতা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই), তৃণমূলের ব্লক সভাপতি থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত প্রধান ও একাধিক জনপ্রতিনিধি পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন।

উত্তর ২৪ পরগনা ও দুর্গাপুরে বড়সড় পদক্ষেপ

২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনায় যৌথভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের এসআই তথা আইএনটিটিইউসি নেতা সৌমেন কাঞ্জিলাল এবং তাঁর ছেলে সম্বিত কাঞ্জিলালকে। এই একই মামলায় বারাসাত ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রাজু দত্ত এবং কাশিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান মেঘনাদ দাসকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বারাসাত আদালতে তোলার সময় আদালত চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এবং সাধারণ মানুষ ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।

অন্য দিকে, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরেও ভোট-পরবর্তী হিংসার পুরনো মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন দুর্গাপুর শহরের ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি তথা বিদায়ী কাউন্সিলর রাজীব ঘোষ। এক স্থানীয় বিজেপি নেতার অফিসে তাঁর উপস্থিতির খবর পেয়ে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এই উত্তেজনার মাঝেই তৃণমূল নেতা সুশান্ত ঘোষের একটি বিস্ফোরক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে, যেখানে তিনি ফিরহাদ হাকিমকে একসঙ্গে পদত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানান।

জয়নগরে বেআইনি অস্ত্র ও মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে বেআইনি অস্ত্র মজুত রাখা, খুনের হুমকি এবং সাধারণ মানুষকে মারধরের গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে যুব তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সুব্রত মণ্ডলকে। এলাকার বাসিন্দাদের ভয় দেখানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। বুধবার বারুইপুর মহকুমা আদালত ধৃত এই যুব নেতাকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মূলত রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে পাওয়া কড়া নির্দেশের কারণেই পুলিশ এই পুরনো মামলাগুলোতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা কঠোর করার উদ্দেশ্যেই এই ধরপাকড় চালানো হচ্ছে।

এই ঘটনার প্রভাবে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদল আসতে পারে। একের পর এক হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার হওয়ায় শাসক শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি ও দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এসেছে। একই সঙ্গে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলার এই আকস্মিক গতিপ্রকৃতি দেখে দুর্নীতি ও হিংসার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে, যার প্রতিফলন ঘটছে আদালত চত্বরের গণবিক্ষোভে। এই ঘটনা আগামী দিনে গ্রামীণ ও পুর এলাকার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *