তৃণমূলে আরও চওড়া ফাটল, এবার মুখপাত্রের পদ ছাড়লেন অরূপ চক্রবর্তী!

তৃণমূলে আরও চওড়া ফাটল, এবার মুখপাত্রের পদ ছাড়লেন অরূপ চক্রবর্তী!

কলকাতা পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ কমিটি থেকে সরে দাঁড়ানোর পরদিনই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ধাক্কা দিলেন জনপ্রিয় নেতা অরূপ চক্রবর্তী। এবার দলের রাজ্য মুখপাত্রের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে চিঠি পাঠালেন তিনি। বুধবারই দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে নিজের পরবর্তী পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অরূপবাবু। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই জল্পনা সত্যি করে দলের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন এই হেভিওয়েট নেতা। চিঠিতে পদত্যাগের পেছনে ব্যক্তিগত কারণ দর্শানো হলেও, তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ও ধারাবাহিক ইস্তফা

এর আগে বুধবার কলকাতা পুরসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) সদস্য পদ থেকে আচমকা ইস্তফা দেন অরূপ চক্রবর্তী। সেই সময়ই দলের একাংশের কাজকর্ম এবং নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, দলের বড় কোনো সাংগঠনিক পদও তিনি আর আঁকড়ে থাকবেন না। মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে কার্যত নিজের সেই হুঁশিয়ারিই বাস্তবায়িত করলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্দরে তৈরি হওয়া কোনো সুপ্ত অসন্তোষ বা কোন্দলের জেরেই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই জোড়া ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অরূপবাবু।

রাজনৈতিক প্রভাব ও আগামীর ইঙ্গিত

নির্বাচনের আগে বা দলের সাংগঠনিক রদবদলের আবহে অরূপ চক্রবর্তীর মতো একজন চটজলদি ও জনপ্রিয় বক্তার মুখপাত্রের পদ থেকে সরে যাওয়া তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। টিভি বিতর্ক থেকে শুরু করে দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত প্রথম সারিতে থেকে দলের পক্ষে সওয়াল করতেন। তাঁর এই ক্ষোভ এবং ইস্তফা দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, অরূপ চক্রবর্তী আগামী দিনে তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে অন্য কোনো রাজনৈতিক পথ বেছে নেবেন নাকি দলে থেকেই নিজের আপত্তির কথা শীর্ষ নেতৃত্বকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন, তা নিয়ে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অবশ্য এই ইস্তফা প্রসঙ্গে এখনও সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *