বাণিজ্যিক গ্যাসের পর এবার কি মহার্ঘ্য গৃহস্থালির এলপিজি, জুনের শুরুতেই পকেটে টান পড়ার আশঙ্কা

বাণিজ্যিক গ্যাসের পর এবার কি মহার্ঘ্য গৃহস্থালির এলপিজি, জুনের শুরুতেই পকেটে টান পড়ার আশঙ্কা

চলতি মাসেই বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৯৯৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধির পর সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে। দেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আগামী ১ জুন থেকে ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৪.২ কেজির গার্হস্থ্য গ্যাস সিলিন্ডার প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কো ম্পা নিগুলো প্রতি মাসের পয়লা তারিখে রান্নার গ্যাসের দাম পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। সেই নিয়ম মেনেই আগামী মাসে সাধারণ মধ্যবিত্তের রান্নাঘরের খরচ এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দাম বাড়ার নেপথ্যে একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিই এই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজির দাম ক্রমাগত বাড়ছে। ভারত তার প্রয়োজনের সিংহভাগ এলপিজি বিদেশ থেকে আমদানি করে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সামান্য ওঠানামাও দেশের অভ্যন্তরে বড় প্রভাব ফেলে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের খরচ এবং বীমা সংক্রান্ত ব্যয় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তেল আমদানির এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত খুচরো গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে বিপণন কো ম্পা নিগুলো।

মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে বড়সড় প্রভাবের আশঙ্কা

বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ায় ইতিমধ্যেই হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাবারের খরচ বেড়েছে। এবার যদি ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দামও বাড়ে, তবে তা সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে সরাসরি আঘাত হানবে। উৎসবের মরশুমের আগে এই ধরনের মূল্যবৃদ্ধি বাজারের অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামকেও পরোক্ষভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে চরম হিমশিম খেতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *