আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম, এয়ার ইন্ডিয়ার পর এবার দিনে ২৫০টি উড়ান বাতিল করছে ইন্ডিগো

আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম, এয়ার ইন্ডিয়ার পর এবার দিনে ২৫০টি উড়ান বাতিল করছে ইন্ডিগো

দেশের বিমান পরিষেবা ক্ষেত্রে বড়সড় সংকটের কালো মেঘ। এয়ার ইন্ডিয়ার পর এবার দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো আগামী জুন মাস থেকে দৈনিক প্রায় ২৫০টি ঘরোয়া বা ডমেস্টিক উড়ান বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তালিকায় ইন্ডিগোর পাশাপাশি রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসও। মূলত বিমান জ্বালানির (এটিএফ) আকাশছোঁয়া দাম এবং আকাশপথে ভ্রমণের চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ার কারণে তৈরি হওয়া পরিচালনগত চাপের জেরেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বিমান সংস্থাগুলি। জুন থেকে অগস্ট—পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়েই উড়ান ছাঁটাইয়ের এই প্রক্রিয়া চলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কোন বিমান সংস্থা কত শতাংশ উড়ান ছাঁটাই করছে

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া জুন ও জুলাই মাসে তাদের ঘরোয়া উড়ানের সূচি থেকে প্রায় ২২ শতাংশ ফ্লাইট কমিয়ে দিচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০০টি ঘরোয়া উড়ান পরিচালনা করা এই সংস্থাটি এখন থেকে দৈনিক প্রায় ১১০টি করে উড়ান কম চালাবে।

অন্যদিকে, প্রতিদিন প্রায় ২,২০০টি উড়ান চালানো ইন্ডিগো তাদের ঘরোয়া যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমিয়ে আনছে। এর ফলেও প্রতিদিন প্রায় ১১০টি করে উড়ান কমবে। পাশাপাশি, এয়ার ইন্ডিয়ার সহযোগী স্বল্প খরচের বিমান পরিষেবা সংস্থা ‘এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস’-ও তাদের দৈনিক প্রায় ৩৪০টি ঘরোয়া উড়ানের সূচি থেকে প্রায় ১০ শতাংশ ফ্লাইট ছাঁটাই করতে চলেছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা মুম্বই, দিল্লি ও বেঙ্গালুরুতে

এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ব্যস্ততম বিমানবন্দর ও রুটগুলি সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছে। বিশেষ করে মুম্বই, দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুর মতো মেট্রো শহরগুলির বাণিজ্যিক ও পর্যটন রুটে উড়ানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

মুম্বই থেকে জয়পুর, গোয়া, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, আমদাবাদ, নাগপুর, পাটনা এবং ভোপাল রুটে উড়ানের সংখ্যা কমছে। একইভাবে দিল্লি থেকে গোয়া, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, আমদাবাদ, লখনউ, কোচি এবং কলকাতা রুটের বিমান পরিষেবা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে। দক্ষিণের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় বেঙ্গালুরুতেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়বে। গরমের ছুটিতে যখন বহু পরিবার ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তখন এই সিদ্ধান্ত সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে।

উড়ান ছাঁটাইয়ের কারণ ও প্রভাব

উড়ান সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিমান জ্বালানির (ATF) দাম মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ঘরোয়া উড়ানের ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। বিমান সংস্থাগুলির বাজেটের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে এই জ্বালানির খরচ। চড়া দামের কারণে বিমান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ায় সংস্থাগুলি উড়ান সংখ্যা কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সৌখিন ভ্রমণ কমে যাওয়ার কারণে বিমানযাত্রার চাহিদাতেও কিছুটা মন্দা দেখা গেছে।

এই গণ-উড়ান বাতিলের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমান ভাড়ার ওপর। বিমানের আসন সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি রুটে ইতিমধ্যেই ভাড়া ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তার ওপর এটিএফ-এর চড়া দামের কারণে বিমান সংস্থাগুলি যাত্রী পিছু ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত ফুয়েল সারচার্জ বা জ্বালানি শুল্ক যুক্ত করেছে। আগামী তিন মাস মুম্বই, দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুকে যুক্তকারী ব্যস্ত রুটগুলিতে টিকিটের দাম আরও বাড়তে পারে, যা বিমানযাত্রাকে সাধারণের সাধ্যের বাইরে নিয়ে যাবে। তবে বিমান সংস্থাগুলির আশ্বাস, পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া মাত্রই তারা আবার স্বাভাবিক উড়ান ফিরিয়ে আনবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *