প্রাথমিক শিক্ষকদের বড় স্বস্তি, টেট পাশের সময়সীমা বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট

প্রাথমিক শিক্ষকদের বড় স্বস্তি, টেট পাশের সময়সীমা বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট

দেশজুড়ে কর্মরত লাখ লাখ প্রাথমিক শিক্ষকের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল সুপ্রিম কোর্ট। টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট বা টেট (TET) পাশের নির্দিষ্ট সময়সীমা আরও এক বছর বাড়িয়ে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২০write২৮ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে দেশের সমস্ত কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষককে অবশ্যই টেট পাশ করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত সাময়িক স্বস্তি দিলেও শিক্ষকদের যোগ্যতা প্রমাণে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়ার কড়া অবস্থান বজায় রেখেছে আদালত।

সময়সীমা বৃদ্ধির কারণ ও নতুন নির্দেশ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে টেট পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়ার আগেই পশ্চিমবঙ্গসহ সারা দেশে বহু শিক্ষক চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। এর আগে এক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ২০২৭ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে এই শিক্ষকদের যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। অন্যথায় তাঁদের স্বেচ্ছাবসর বা ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট নিতে হবে। তবে যাঁদের অবসরের আর মাত্র পাঁচ বছর বাকি রয়েছে, তাঁরা এই নিয়ম থেকে ছাড় পাবেন।

আদালতের এই কড়া নির্দেশের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে একাধিক রিভিউ পিটিশন বা পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা পড়েছিল। আবেদনকারী শিক্ষকদের বক্তব্য ছিল, তাঁরা দীর্ঘ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করছেন, তাই তাঁদের নতুন করে এই পরীক্ষা থেকে ছাড় দেওয়া হোক। আদালত পরীক্ষা থেকে ছাড় দেওয়ার আবেদন খারিজ করলেও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে টেট পাশের সময়সীমা আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ ও দেশজুড়ে সম্ভাব্য প্রভাব

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে সারা দেশের প্রায় ৩০ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই এমন শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ, যাঁরা টেট পাশ না করেই প্রাথমিকে নিযুক্ত হয়েছিলেন। আদালতের এই নতুন সময়সীমা নির্ধারণের ফলে ওই ১ লক্ষ শিক্ষক নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য বাড়তি কিছু সময় পেলেন। তবে ২০২৮ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে চাকরি হারানোর বা স্বেচ্ছাবসরের চূড়ান্ত ঝুঁকি বহাল থাকছে, যা আগামী দিনে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *