৩৪ কোটি টাকার মুক্তিপণ, ২০ বছর পর সৌদি আরবের ফাঁসিকাঠ থেকে দেশে ফিরলেন কেরলের প্রৌঢ়

৩৪ কোটি টাকার মুক্তিপণ, ২০ বছর পর সৌদি আরবের ফাঁসিকাঠ থেকে দেশে ফিরলেন কেরলের প্রৌঢ়

সুদূর সৌদি আরবে উপার্জনের আশায় গিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন কেরলের আবদুল রহিম। অবশেষে ‘ব্লাড মানি’ বা প্রাণের দাম চুকিয়ে অলৌকিক এক লড়াই শেষে নিজের দেশে ফিরেছেন এই প্রৌঢ়। ২০০৬ সাল থেকে বন্দি থাকার পর তাঁর এই ঘরে ফেরা ভারতীয় কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কেরলবাসীদের মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বিদেশে পাড়ি ও বন্দিজীবনের শুরু

কেরলে বাস এবং অটো রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা আবদুল রহিম ২০০৬ সালে রিয়াধে পৌঁছান। উদ্দেশ্য ছিল চালকের কাজ করে পরিবারে সচ্ছলতা আনা। সেখানে এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত ১৭ বছর বয়সী কিশোরের সহকারীর কাজ পান তিনি। কিশোরটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে শ্বাস নিত। একদিন গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত সেই যন্ত্রের সুইচটি বন্ধ হয়ে যায় এবং কিশোরটি মারা যায়। সৌদি আরবে পা রাখার মাত্র ২৮ দিনের মাথায় অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন রহিম। ২০১১ সালে সৌদির আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়।

ত্রাতা ‘ব্লাড মানি’ এবং মানবিকতার অনন্য নজির

ইসলামিক আইন অনুযায়ী, অনিচ্ছাকৃত অপরাধের ক্ষেত্রে আক্রান্তের পরিবারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা ‘ব্লাড মানি’ দিয়ে রেহাই পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রহিমের ফাঁসি রুখতে এবং তাঁর মুক্তির জন্য প্রায় ৩৪ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন ছিল। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় দূতাবাসের সহযোগিতায় বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠে ‘সেভ আবদুল রহিম’ নামের একটি বিশাল জন তহবিল। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা কেরলের প্রবাসীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করে এই তহবিল গঠন করেন।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঘরে ফেরা

প্রয়োজনীয় ৩৪ কোটি টাকা পরিশোধের পর ২০২৪ সালের ২ জুলাই রহিমের মৃত্যুদণ্ডের সাজা আনুষ্ঠানিকভাবে রদ করা হয়। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২০ মে পর্যন্ত তাঁকে জেলেই থাকতে হয়েছিল। দীর্ঘ ২০ বছরের বন্দিজীবন পূর্ণ করে অবশেষে ভারতে পৌঁছালে বিমানবন্দরে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতিতে দেশে ফিরে রহিম বিশ্বজুড়ে থাকা সমস্ত মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ তিনি নতুন জীবন ফিরে পেলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *