ট্রাইব্যুনালের মামলা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ হাই কোর্ট, রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া এবং ট্রাইব্যুনালের ধীরগতির কাজ নিয়ে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। ট্রাইব্যুনালে দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে প্রতিদিন যেভাবে অসংখ্য মামলা দায়ের হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিচারপতি। সাধারণ মানুষের এই সীমাহীন হয়রানি বন্ধ করতে প্রয়োজনে জেলা স্তরে ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হয়রানি নিয়ে আদালতের তীব্র ক্ষোভ
কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের এজলাসে ট্রাইব্যুনালে দ্রুত শুনানির আবেদন সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলাকালীন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। একের পর এক মামলার চাপ দেখে ক্ষুব্ধ বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষকে কেন এত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে? সুদূর দিনহাটা থেকে একজন মানুষ কেন কলকাতায় জোকায় এসে শুনানির জন্য অপেক্ষা করবেন? রাজ্যের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদারের উদ্দেশে বিচারপতি পালের স্পষ্ট মন্তব্য, রাজ্য সরকারের উচিত শীর্ষ আদালতে মামলা করে জেলায় জেলায় ট্রাইব্যুনাল গঠনের আর্জি জানানো। সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং বিচার প্রক্রিয়া সহজ করার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সমস্যার উৎস ও সম্ভাব্য প্রভাব
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের তত্ত্বাবধানে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। বিচারাধীন তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটার ট্রাইব্যুনালে আবেদন জমা দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান পরিকাঠামোয় জোকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় ট্রাইব্যুনাল থেকে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের শুনানি করা কার্যত আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এখন পর্যন্ত অত্যন্ত কম সংখ্যক ভোটারের আবেদনের নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে।
ভৌগোলিক দূরত্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে লাখ লাখ ভোটারের ভাগ্য এখনও ঝুলে রয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে জোকায় হাজির হলেও কবে নাগাদ এই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে, তা নিয়ে বড়সড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই ধীরগতির প্রভাব সরাসরি আসন্ন নির্বাচনে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লাখ লাখ নাগরিক যদি সময়মতো শুনানির সুযোগ না পান, তবে তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আদালতের এই কড়া মনোভাবের পর রাজ্য প্রশাসন ট্রাইব্যুনালের বিকেন্দ্রীকরণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কিনা, এখন সেটাই দেখার।