পালাবদলের ঝড়ে নতুন সমীকরণ, নবান্নে শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে বিমল গুরুংরা

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই বদলে যেতে শুরু করেছে দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলের সমীকরণ। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার শীর্ষনেতা বিমল গুরুং ও রোশন গিরিদের বৈঠক সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট করে দিল। দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে পাহাড়ের থমকে থাকা উন্নয়নের গতি ফেরাতে এই দিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে পাহাড়ের তিন পুরসভায় প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাহাড়ের তিন পুরসভায় প্রশাসক ও বিশাল আর্থিক প্যাকেজ
পাহাড়ের নাগরিকদের পরিষেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আপাতত দার্জিলিং বাদে বাকি তিনটি পুরসভা— কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিকে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। এদিনের বৈঠকে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তাও উপস্থিত ছিলেন। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাবদ ৩ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেছেন। জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-এর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শামা পারভীনকে স্থানীয় বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিগত দিনে অর্থ বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও জিটিএ কেন কাজ করতে পারেনি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নতুন সরকার।
পটপরিবর্তনের কারণ ও পাহাড়ে ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত
রাজ্যে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড় জুড়ে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে একাধিক মামলার জেরে দীর্ঘদিন অন্তরালে থাকা বিমল গুরুং ও রোশন গিরিরা রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর আবার প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মূলস্রোতে ফিরে এসেছেন। বর্তমানে জিটিএ-র দায়িত্বে থাকা অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা বিদায়ী তৃণমূল সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ফলে রাজ্যে সরকার বদলাতেই জিটিএ-র ভবিষ্যৎ এবং অনীত থাপার নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব
তিন পুরসভার বোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসানোর এই প্রশাসনিক পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই সিদ্ধান্তের ফলে পাহাড়ে খুব দ্রুত পুরনির্বাচন এবং সেই সঙ্গে জিটিএ নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হতে পারে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পাহাড়বাসী এখন পূর্ণাঙ্গ নাগরিক সুবিধা ও উন্নয়ন চাইছেন। নবান্নের এই দ্রুত পদক্ষেপের ফলে পাহাড়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ যেমন নতুন সরকারের হাতে চলে এলো, তেমনই গুরুংদের উপস্থিতিতে আঞ্চলিক রাজনীতিতেও অনীত থাপাদের ওপর চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পেল।