স্বেচ্ছায় ফিরলে মিলবে আইনি ছাড়, বাংলায় অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া বার্তা অমিত শাহের

বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সীমান্ত সুরক্ষায় এক বড়সড় মোড় এসেছে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গুজরাট সফরে গিয়ে এক জনসভায় তিনি জানান, অতীতে যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ভারতে প্রবেশ করত, বর্তমানে সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। এখন উল্টো স্রোত শুরু হয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে দশ হাজার মানুষ নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা যদি স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যান, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আইনি পদক্ষেপ করা হবে না।
সীমান্তের জমিসমস্যা সমাধান ও নতুন পরিকাঠামো
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, বাংলায় নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত দিনের মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ৬০০ হেক্টর জমি তুলে দিয়েছে। এর পাশাপাশি রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক করিডর’-এর সুরক্ষার্থে আরও ১২১ হেক্টর জমি কেন্দ্রের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের জমানায় সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদাসীনতার অভিযোগ তুলে অমিত শাহ জানান, বর্তমান সরকারের সদিচ্ছার কারণেই রাজ্যে ইতিমধ্যেই ডিটেনশন সেন্টার বা আটক শিবির তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
নিরাপত্তা ও জনবিন্যাসের ওপর প্রভাব
অনুপ্রবেশের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, সে বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই জনবিন্যাসের পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। তবে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় অভিযান শুরু হওয়ার আগেই বহু মানুষ আইনি জটিলতা এড়াতে স্বেচ্ছায় ফিরে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করছে কেন্দ্র। রাজনৈতিক মহলের মতে, গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের এই খতিয়ান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসলে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কেন্দ্রের জিরো টলারেন্স নীতিকেই পুনর্ব্যক্ত করলেন।