বদলাচ্ছে রাজ্যের সমীকরণ, আন্তর্জাতিক মানের এয়ারপোর্ট পেয়ে এবার ডানা মেলবে মালদহের স্বপ্ন
মালদহবাসীর দীর্ঘদিনের আকাশছোঁয়া স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবায়িত হতে চলেছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জেলায় একটি নতুন আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর গড়ে তোলার প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে শুরু হয়েছে। বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা পুরনো বিমানবন্দরটি বড় বিমান ওঠানামার অযোগ্য হয়ে পড়ায় এবার সম্পূর্ণ নতুন জায়গায় এই বিমানবন্দর তৈরির মহোদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে এই তৎপরতা শুরু হওয়ায় মালদহ জেলার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
পুরনো বিমানবন্দরের সমস্যা ও নতুন উদ্যোগ
এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞ দলের মতে, মালদহ শহরের বর্তমান বিমানবন্দরটিকে আধুনিক করার ক্ষেত্রে একাধিক বড় বাধা রয়েছে। বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য বড় বিমানের জন্য পর্যাপ্ত নয় এবং চারপাশে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রচুর বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান পরিকাঠামোকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করা আসাম্ভব। ফলে জেলা প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বিমান সংস্থা যৌথভাবে নতুন জমির খোঁজ শুরু করেছে। মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু জানিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর মালদহে একটি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর গড়ে তোলার আশ্বাস মিলেছে। প্রাথমিক সমীক্ষার পর গাজোল, আটমাইল এবং নারায়ণপুর— এই তিনটি এলাকাকে নতুন বিমানবন্দরের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক প্রভাব ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
মালদহে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর তৈরি হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর এক বিশাল ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের মতে, বিমান পরিষেবা চালু হলে জেলার ব্যবসা ও শিল্পক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের অন্যান্য প্রান্তের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন সহজ হবে, তেমনই আমসহ জেলার বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য দ্রুত রপ্তানির পথ সুগম হবে। এর পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে, যা মালদহ তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক চেহারা বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।