শাসকই ঘাতক! অভিষেক-কাণ্ডে তোপ মমতার, গণতন্ত্রের ওপর হামলা বলে সরব রাহুল-খড়্গে

শাসকই ঘাতক! অভিষেক-কাণ্ডে তোপ মমতার, গণতন্ত্রের ওপর হামলা বলে সরব রাহুল-খড়্গে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠল জাতীয় রাজনীতি। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বর্তমান বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের শীর্ষ নেতারা। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি তোপ দেগে বলেছেন, “শাসকই ঘাতকে পরিণত হয়েছে।” অন্যদিকে, এই ঘটনাকে সরাসরি ‘গণতন্ত্রের ওপর হামলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তবে এই ঘটনায় দলের কোনো যোগ নেই দাবি করে উল্টে তৃণমূল জমানার হিংসার ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

ষড়যন্ত্র ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ইন্ডিয়া জোটের

শনিবার সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে ঢোকার মুখে বিক্ষোভকারীদের হাতে চরম হেনস্থা হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মাথায়-ঘাড়ে এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয়, জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয় এবং ভেঙে দেওয়া হয় চশমা ও তাঁর চড়া বাইকটি।

এই ঘটনার পর এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে সরব হন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনি লেখেন, “অভিষেকের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার প্রমাণ করল যে তারা বিদ্বেষপূর্ণ, নেতিবাচক ও হিংসাত্মক রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। এমন সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে পুলিশের অনুপস্থিতি এক বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে।”

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একে বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতি বলে উল্লেখ করেছেন। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব অভিষেকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বলেন, “ক্ষমতায় থাকা অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিরাই এই ধরনের সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেয় ও সংগঠিত করে।”

আমাদের সংযমের জন্যই তৃণমূল অক্ষত আছে: শমীক

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছে বিজেপি-ও। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সকলকে হিংসা বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পুলিশ কেন ছিল না, সেটা আমি দলের প্রতিনিধি হিসেবে বলতে পারব না, তা রাজ্য সরকার বলবে।”

একই সঙ্গে তৃণমূলকে আক্রমণ করে শমীক বলেন, “বিগত দিনে শুভেন্দু অধিকারী যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তখন উত্তরবঙ্গে তাঁকে গাড়িতে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছিল। তৃণমূল আমাদের কর্মীদের ওপর যে অত্যাচার করেছে, তার জবাবে আমরা সংযত ছিলাম বলেই আজ তৃণমূল অক্ষত আছে।”

তৃণমূলকে প্রচারের আলোয় রাখার কৌশল হতে পারে: সেলিম

এই হামলাকে ‘কাম্য নয়’ বলে উল্লেখ করেও তৃণমূলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বিগত জমানার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “উনি (অভিষেক) একসময়ে শত শত পুলিশের প্রহরায় হুঙ্কার দিয়েছিলেন, কোন বাপ আছে দেখে নেবেন। সেটাও যেমন গণতন্ত্রে উচিত নয়, আজকের ঘটনাও কাম্য নয়।” তবে এর নেপথ্যে অন্য কোনো রাজনৈতিক অঙ্ক দেখছেন সেলিম। তাঁর মতে, “বিজেপি-আরএসএস চাইবে নানা কৌশলে তৃণমূলকে প্রচারের আলোয় রেখে দিতে। আজকের ঘটনা তেমন কোনো কৌশল হলেও হয়ে থাকতে পারে।” সব মিলিয়ে, মে মাসের শেষে এসে সোনারপুরের এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *