বিরাট ধস তৃণমূলের অন্দরে, মাত্র ১৯ জন বিধায়ক আসায় মমতার বৈঠক বাতিল!

ভোটে ভরাডুবির মাত্র একমাসের মাথায় বড়সড় সাংগঠনিক ধাক্কার মুখে পড়ল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় বিধায়কদের নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে ডাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক রোববারে বাতিল করতে বাধ্য হলো দল। জানা গেছে, আমন্ত্রিত ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে এদিন মাত্র ১৯ জন উপস্থিত হওয়ায় এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার আগেই বিধায়কদের এই চরম অনুপস্থিতি দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ছত্রভঙ্গ দশাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিধায়কদের অনুপস্থিতির কারণ
বৈঠক বাতিলের পর কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে দলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ অবশ্য ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রবিবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হওয়া হামলার জেরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হওয়ায় বহু দলীয় বিধায়ককে পুলিশ আটক করে থানায় বসিয়ে রেখেছে।
কুণাল ঘোষ আরও জানান, বহু বিধায়ক ফোন করে বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। বিধায়করা আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন যে, তাঁরা এলাকা ছাড়লে তৃণমূল কর্মীদের ওপর আরও বেশি মাত্রায় হামলা হতে পারে। দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সময় চেয়ে নেওয়া সেইসব অনুরোধের কথা মাথায় রেখেই আপাতত এই বৈঠক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আগামী দিনে সম্ভাব্য প্রভাব ও তৃণমূলের কর্মসূচি
এই ঘটনার রেশ ধরে আগামী দিনগুলোতে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দলীয় বিধায়কদের এই অনুপস্থিতি সাধারণ কর্মীদের মনোবল যেমন ধাক্কা দেবে, তেমনই বিরোধী শিবিরকে আক্রমণের বাড়তি রসদ জোগাবে।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর হামলার জবাবে আগামী সোম ও মঙ্গলবার—পরপর দু’দিন রাজ্যজুড়ে বড়সড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে দল যেমন জনমানসে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে, তেমনই নিজেদের ঘর গোছানোর মরিয়া চেষ্টাও চালাচ্ছে।