‘এসব কেন, আমি তো আছি’— পার্সেল দিতে এসে ডেলিভারি বয়ের কথায় হতবাক তরুণী

‘এসব কেন, আমি তো আছি’— পার্সেল দিতে এসে ডেলিভারি বয়ের কথায় হতবাক তরুণী

গোপনীয়তার ওপর ভরসা রেখে ই-কমার্স অ্যাপের মাধ্যমে পণ্য অর্ডার করাই যেন কাল হলো দিল্লির এক তরুণীর। অনলাইনে একটি যৌন খেলনা বা ‘ভাইব্রেটার’ অর্ডার দিয়ে চরম হেনস্তার শিকার হতে হলো তাঁকে। পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার পর ওই তরুণীকে ফোনে অশালীন ও আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ডেলিভারি বয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং গ্রাহকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।

সিল ছেঁড়া পার্সেল ও ফোনে হেনস্তা

দিল্লির বাসিন্দা ওই তরুণী এক জনপ্রিয় অনলাইন ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে পণ্যটি অর্ডার করেছিলেন। তবে পার্সেলটি যখন তাঁর হাতে পৌঁছায়, তখন দেখা যায় সেটির সিল ছেঁড়া ছিল। সুরক্ষাজনিত কারণে তরুণী যখন পণ্যটি ফেরত দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর ফোনে একটি কল আসে। তরুণীর দাবি, ফোনটি করেছিলেন ওই ডেলিভারি বয় নিজেই। ফোন তুলতেই ওপাশ থেকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করা হয়। যুবকের এমন আচরণে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ওই তরুণী এবং তাৎক্ষণিকভাবে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আইনি পদক্ষেপ ও অভিযোগ জানানোর হুঁশিয়ারি দেন। তোপের মুখে পড়ে পরবর্তীতে ওই যুবক ক্ষমা চাইলেও ততক্ষণে বিষয়টি চরম আকার ধারণ করে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও সংস্থার পদক্ষেপ

ঘটনাটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে প্রত্যক্ষ যৌন হেনস্তা বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং অনলাইন ডেলিভারি সংস্থাগুলোর গ্রাহক সুরক্ষা নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে নারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং এ ধরনের স্পর্শকাতর পণ্য ডেলিভারির ক্ষেত্রে কর্মীদের পেশাদারিত্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সংশ্লিষ্ট ই-কমার্স সংস্থাটি অনতিবিলম্বে ওই তরুণীর কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছে। একই সাথে অভিযুক্ত ডেলিভারি বয়কে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে এই ঘটনাটি অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের, বিশেষ করে নারী গ্রাহকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিকে পুনর্বার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *