কামারহাটিতে পুলিশি অভিযানের পর হুঙ্কার দিয়ে দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশির খবর ওড়ালেন মদন মিত্র

রবিবার ছুটির দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিল কামারহাটিতে বিধায়ক মদন মিত্রের ডেরায় পুলিশের আকস্মিক হানা। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে এক বিশাল পুলিশ বাহিনী এই অভিযানে অংশ নেয়। তবে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, বাড়িটি তখন সম্পূর্ণ তালাবন্ধ ছিল। শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয় তদন্তকারীদের। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ভেতরে তল্লাশি চালানোর পর বাড়িটি পুনরায় লক করে পুলিশ কর্মীরা সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারহাটির এই বিতর্কিত ‘উদয় ভিলা’ ভবনটির ভেতরেই তৃণমূল বিধায়কের একটি দলীয় কার্যালয় রয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারি জমি ও গুড্ডু সূত্র
মূলত একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এই পদক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, যে জমির ওপর এই ‘উদয় ভিলা’ গড়ে তোলা হয়েছে, সেটি আসলে একটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার অধীনস্থ জায়গা। কোনও বৈধ অনুমতি ছাড়া কীভাবে একটি কেন্দ্রীয় সংস্থার মালিকানাধীন জমিতে এই ভবনটি নির্মাণ করা হল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান চালানো হয়। এদিকে এই ঘটনার নেপথ্যে ‘গুড্ডু’ নামে এক ব্যক্তির যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মদন মিত্র সোজাসুজি জানান যে তিনি গুড্ডুকে চেনেন। এই জমি বিতর্ক এবং গুড্ডুর সংশ্লিষ্টতা আগামী দিনে এই তদন্তের পরিধি আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
পাল্টা চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক প্রভাব
তদন্তের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই পাল্টা হুঙ্কার ছেড়েছেন কামারহাটির হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়ক। কালীঘাটে দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, পুলিশ তাঁর অফিসে যায়নি, ওটা একটা মহিলা কো-অপারেটিভের অফিস। তদন্তকে স্বাগত জানিয়েও এর পেছনে রাজনৈতিক চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন তিনি। পুলিশের এই অতিসক্রিয়তাকে খোঁচা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ পাঠিয়ে চমকানো যাবে না, ক্ষমতা থাকলে সিবিআই বা ইডি দিয়ে তদন্ত করানো হোক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার ফলে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি আরও তীব্র হবে এবং ভোট-পরবর্তী আবহে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বৃদ্ধি পাবে।