শেয়ার বাজারের উত্তাল তরঙ্গেও মিউচুয়াল ফান্ডে ভরসা বাড়ছে আমজনতার, বিনিয়োগের আগে জেনে নিন সহজ পাঠ

শেয়ার বাজারের উত্তাল তরঙ্গেও মিউচুয়াল ফান্ডে ভরসা বাড়ছে আমজনতার, বিনিয়োগের আগে জেনে নিন সহজ পাঠ

বর্তমান সময়ে ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সঞ্চয়ের বিকল্প নেই। একটা সময় ছিল যখন সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের প্রথম পছন্দ ছিল ফিক্সড ডিপোজিট। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মানসিকতায় বড় বদল এসেছে। ফিক্সড ডিপোজিটের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে এখন বহু মানুষের প্রধান ভরসা হয়ে উঠছে মিউচুয়াল ফান্ড। ভারতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (SEBI) দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় এই ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা দিন দিন দৃঢ় হচ্ছে। তবে এই বাজারে পা রাখার আগে ফান্ডের খুঁটিনাটি ও প্রাথমিক বিষয়গুলো জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বিনিয়োগের লক্ষ্য ও ফান্ডের প্রকারভেদ

মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে মূলত অসংখ্য বিনিয়োগকারীর অর্থ একত্রিত করে একটি বড় তহবিল গঠন করা হয়। এরপর একজন পেশাদার ফান্ড ম্যানেজার সেই অর্থ বিনিয়োগকারীদের আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী বিভিন্ন সম্পদ শ্রেণিতে বিনিয়োগ করেন। এই বিনিয়োগ মূলত তিন ধরণের হয়ে থাকে। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা হলে তাকে বলা হয় ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ড। সরকারি বা বেসরকারি ঋণপত্র এবং বন্ডে বিনিয়োগ করা হলে তাকে ডেব্ট ফান্ড বলা হয়। আর যখন এই দুই ধরণের শ্রেণিতেই মিলিয়ে-মিশিয়ে বিনিয়োগ করা হয়, তখন তাকে বলা হয় হাইব্রিড ফান্ড।

কীভাবে বুঝবেন ফান্ডের মূল্য

মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি শব্দ হলো এনএভি বা নেট অ্যাসেট ভ্যালু। এটি হলো যে কোনও মিউচুয়াল ফান্ড স্কিমের তহবিলের প্রতি ইউনিটের বর্তমান বাজার মূল্য। সহজ ভাষায়, শেয়ার বাজারের উত্থান-পতনের সঙ্গে মিলিয়ে এই এনএভি ওপর-নীচ হতে পারে। ফান্ড ম্যানেজাররা এই যৌথ তহবিল বিভিন্ন জায়গায় খাটিয়ে মূলত চারটি উৎস থেকে আয় নিশ্চিত করেন। যার মধ্যে রয়েছে শেয়ার বাজারের লভ্যাংশ, বন্ড বা ঋণপত্রের সুদের আয়, সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে মূলধনী লাভ এবং অন্যান্য বিনিয়োগজনিত আয়। তবে বাজারের স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা দেখে বারবার ফান্ডের পারফরম্যান্স বিচার করা উচিত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

সঠিক ফান্ড নির্বাচন ও করের নিয়ম

বিনিয়োগ শুরু করার আগে নিজস্ব আর্থিক লক্ষ্য, সময়সীমা এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে সেবি শংসায়িত বিনিয়োগ উপদেষ্টার পরামর্শ নিয়ে কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট বা নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন বা মূলধনী লাভ ভারতে করযুক্ত। ইকুইটি ফান্ডের ক্ষেত্রে ১২ মাসের কম সময়ে সম্পদ বিক্রি করলে ২০ শতাংশ শর্ট টার্ম ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স লাগে এবং ১২ মাসের বেশি হলে লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন্স ট্যাক্স প্রযোজ্য হয়। অন্যদিকে ডেব্ট ফান্ডের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর নিজস্ব ইনকাম ট্যাক্স স্ল্যাব অনুযায়ী কর নির্ধারিত হয়। সঠিক নিয়মে ও বুঝে বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে বড় অঙ্কের সম্পদ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *