তৃণমূলের মুখে সমাজসেবার তকমা, হাতে লাইসেন্সহীন পিস্তল! কে এই দেবু?

সমাজসেবার আড়ালে কি আসলে লুকিয়ে ছিল অপরাধের অন্ধকার? লাইসেন্সহীন পিস্তল ও কার্তুজ-সহ হুগলির ত্রিবেণীর প্রভাবশালী তৃণমূল কর্মী দেবরাজ পাল ওরফে দেবুর গ্রেফতারির পর এই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে গোটা এলাকায়। নিজেকে ‘সমাজসেবী’ হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসলেও, রবিবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মগড়া থানার পুলিশের এক যৌথ অভিযানে শেষরক্ষা হয়নি তাঁর। বাড়ি এবং হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ দেবরাজকে গ্রেফতারের এই ঘটনায় স্বভাবতই শোরগোল পড়ে গিয়েছে হুগলির রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে।
আতঙ্কের রাজত্ব ও অভিযোগের পাহাড়
ত্রিবেণীর কালীতলার বাসিন্দা দেবরাজ পালের বিরুদ্ধে এলাকায় জমি দখল, পুকুর ভরাট এবং অবাধে তোলাবাজি চালানোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় স্তরে শাসকদলের বড় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে এলাকায় তাঁর মারাত্মক দাপট ছিল বলে দাবি বাসিন্দাদের। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে একটি খুনের মামলাও রয়েছে, যে কারণে বেশ কিছু বছর আগে জেল খাটতে হয়েছিল তাঁকে। জেল থেকে বেরিয়ে পুনরায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। তবে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে এই এলাকায় তৃণমূলের পরাজয়ের পর কিছুদিন এলাকাছাড়া ছিলেন দেবু। সম্প্রতি এলাকায় ফিরতেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযানে নামে পুলিশ।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই গ্রেফতারির নেপথ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দিনকয়েক আগেই সপ্তগ্রামের বিজেপি বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ কালীতলা এলাকায় এসে দেবরাজকে সরাসরি নিশানা করে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, কোনও সমাজবিরোধী ছাড় পাবে না। বিধায়কের সেই বক্তব্যের পরই পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও ধৃত দেবরাজের দাবি, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন এবং বিজেপির নির্দেশেই পুলিশ তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলার নিরিখে এই গ্রেফতারি অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। দীর্ঘদিন ধরে ভয়ে মুখ বুজে থাকা সাধারণ মানুষ এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। এতদিন থানায় অভিযোগ করতে গেলেও যেখানে প্রাণনাশের হুমকি মিলত, সেখানে পুলিশের এই সক্রিয়তা সাধারণ মানুষের মনে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অনেকটাই লাগাম টানবে।