আইআরজিসির লাগামহীন আধিপত্য, যুদ্ধের মাঝেই কি পদত্যাগ করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান?

আইআরজিসির লাগামহীন আধিপত্য, যুদ্ধের মাঝেই কি পদত্যাগ করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই তীব্র রাজনৈতিক ডামাডোল ইরানে। দেশের অত্যন্ত প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ বা আইআরজিসি-র লাগামহীন আধিপত্যে ক্ষুব্ধ হয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান পদত্যাগ করতে চেয়েছেন বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, দেশটির নির্বাচিত সরকারকে আড়ালে রেখে আইআরজিসি-র লাগাতার স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই চরম বিরক্ত হয়ে তিনি সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ব রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে।

খামেনেইয়ের কাছে ইস্তফাপত্র এবং গুরুতর অভিযোগ

সম্প্রতি ব্রিটেনের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আইআরজিসি-র একচেটিয়া ক্ষমতা প্রদর্শনের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান। তাঁর অভিযোগ, যুদ্ধকালীন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে শান্তিচুক্তির আলোচনা— প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্বাচিত সরকারকে এড়িয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এই সামরিক বাহিনী। এর ফলে সরকারের ভেতরে তৈরি হওয়া শূন্যতার সুযোগ নিয়ে আইআরজিসি-র কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে এবং পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে। এই লাগামহীন হস্তক্ষেপের কারণে তিনি দেশের প্রশাসনিক ও আইনগত দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পড়েছেন বলেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গুজব বলে উড়িয়ে দিল তেহরান

আন্তর্জাতিক মহলে এই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লেও তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান প্রশাসন। দেশটির সরকারি সূত্র ও সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগের মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি এবং এই কঠিন সময়ে তিনি নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন। প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের যোগাযোগ ও তথ্য বিভাগের উপ-প্রধান সৈয়দ মেহেদি তাবাতাবাই এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের মনগড়া কল্পনা ও গুজব বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ইরানের জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ধরনের ভিত্তিহীন রটনা ছড়ানো হচ্ছে, তবে দেশের জনগণের স্বার্থে পেজেস্কিয়ান নিজের অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র নড়বেন না।

ক্ষমতা দ্বন্দ্বের নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি প্রশাসনে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও কট্টরপন্থী আইআরজিসি-র মধ্যে ক্ষমতার অলিখিত টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আইআরজিসি যদি সত্যিই সমস্ত সিদ্ধান্ত এককভাবে নিতে শুরু করে, তবে তা ইরানের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড়সড় সংকটে ফেলতে পারে। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের এই দাবিকে তেহরান সরকারিভাবে অস্বীকার করলেও, এই জল্পনা যদি আংশিকও সত্যি হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *