বিয়ের মণ্ডপ থেকে শ্মশান, আমেরিকায় চপার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিমানচালক

বিয়ের মণ্ডপ থেকে শ্মশান, আমেরিকায় চপার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিমানচালক

আমেরিকায় এক মর্মান্তিক চপার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ২৫ বছর বয়সী যুবক ডেভ ফিজি। বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ডেভ নিজে পেশায় একজন বাণিজ্যিক বিমানচালক হওয়া সত্ত্বেও প্রকৃতির নিষ্ঠুর খেয়াল এবং যান্ত্রিক বা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির শিকার হতে হলো তাঁকে। এই অকালমৃত্যুতে দুটি প্রবাসী ভারতীয় পরিবারে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে পরিণত হয়েছে। দুর্ঘটনায় নববধু জেসনি অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেও গুরুতর আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার কারণ ও সেই অভিশপ্ত মুহূর্ত

মূলত বৈরী আবহাওয়া এবং কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতির কারণেই এই চপার দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আটলান্টার বাসিন্দা ডেভ ডেল্টা এয়ারলাইন্সের পাইলট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নবদম্পতি একটি পাঁচ আসনের রবিনসন চপারে করে ডাউনটাউন আটলান্টার একটি হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। বিমানচালক হওয়ায় ডেভ নিজেই আবহাওয়ার অবনতি দেখে প্রথমে চপারে উঠতে চাননি। কিন্তু পরবর্তীতে সেই চপারেই রওনা হওয়ার পর রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ প্রবল বৃষ্টি ও কুয়াশার কবলে পড়ে চপারটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় ডেভ এবং চপারের মূল চালক—দুজনেরই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়।

পরিবার ও প্রবাসে সম্ভাব্য প্রভাব

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আমেরিকার প্রবাসী ভারতীয় সমাজসহ ডেভের আদি বাসস্থান কেরলের এর্নাকুলমে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। বহু বছর আগে ডেভের বাবা জর্জ ও মা ফেবা ফিজি কেরল থেকে আমেরিকায় স্থায়ী হয়েছিলেন। অন্যদিকে কনে জেসনির পরিবারও কেরলের বাসিন্দা। দুই পরিবারের এই আনন্দঘন মিলন এভাবে ট্র্যাজেডিতে রূপ নেওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ছোট হেলিকপ্টার বা চপার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈরী আবহাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পেশাদার বিমানচালক হওয়া সত্ত্বেও ডেভের এই পরিণতি প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল প্রকৃতি ও উড়ান ব্যবস্থাপনার সামান্য ত্রুটি কতটা মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *