তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল, দলটাই আর থাকবে না বলে বিস্ফোরক কটাক্ষ অধীরের

তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল, দলটাই আর থাকবে না বলে বিস্ফোরক কটাক্ষ অধীরের

নির্বাচনী বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সাংসদ, প্রাক্তন বিধায়ক থেকে শুরু করে কাউন্সিলরদের দল ছাড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সাংগঠনিক বৈঠকও বিধায়কদের অনুপস্থিতির কারণে ভেস্তে গিয়েছে। এই চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই এবার শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, শাসকদলের বহু নেতা ও জনপ্রতিনিধি এখন কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

বৈঠকে গরহাজির ৬০ বিধায়ক, বহিষ্কারের পথে দল

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ফাটল এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে রবিবার দলনেত্রীর ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২০ জন। ৬০ জন বিধায়কের এই অনুপস্থিতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। এর পরেই কড়া পদক্ষেপ হিসেবে সোমবার দুই বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। এই বহিষ্কারের জেরে বিধানসভায় শাসকদলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮-এ।

অনেকেই কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন

শাসকদলের এই নজিরবিহীন কোন্দল নিয়ে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরী কটাক্ষের সুরে বলেন, ভোটের মাত্র এক মাসের মধ্যে দলটার অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। জনপ্রতিনিধিরা বুঝতে পেরেছেন যে মমতার সঙ্গে থাকা এখন রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক। তাই রাজ্যজুড়ে তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক লেগেছে। ৮০ জন বিধায়ক নিয়েও দলটি শেষ পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দলের সম্মান পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অধীরবাবু স্পষ্ট দাবি করেন, তৃণমূলের বহু নেতা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের খোঁজে অনেকেই কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

সংকটের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা থাকা আদি বনাম নব্য কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এসেছে। নেতাদের পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি এবং নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থার কারণেই এই দল ছাড়ার প্রবণতা। ব্যাপক হারে জনপ্রতিনিধিদের দলত্যাগ এবং বিধায়কদের এই বিদ্রোহী মনোভাবের কারণে আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে ও বাইরে শাসকদল আরও কোণঠাসা হতে পারে। বিধায়ক সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাওয়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *