মমতার ধর্নায় অনুমতি দেয়নি কলকাতা পুলিশ, ক্ষুব্ধ তৃণমূলের বিস্ফোরক দাবি

মমতার ধর্নায় অনুমতি দেয়নি কলকাতা পুলিশ, ক্ষুব্ধ তৃণমূলের বিস্ফোরক দাবি

কলকাতার রাজনৈতিক পারদ আরও একবার তুঙ্গে। মঙ্গলবার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বঘোষিত ধর্না কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে যে, কলকাতা পুলিশ এই কর্মসূচির জন্য কোনো অনুমতি দেয়নি। শুধু তাই নয়, ধর্নামঞ্চ তৈরির জন্য সেখানে আগে থেকে এনে রাখা সমস্ত সামগ্রীও পুলিশ জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে শাসকদল।

রাজনৈতিক সংঘাত ও পুলিশের ভূমিকা

তৃণমূল দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের এই ধর্না কর্মসূচিকে সফল করতে আগেভাগেই মঞ্চ নির্মাণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। কিন্তু সোমবার আকস্মিকভাবেই পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সমস্ত জিনিসপত্র ছোট গাড়িতে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী ফেসবুক লাইভে এসে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর দাবি, প্রায় সাত দিন আগেই এই কর্মসূচির জন্য প্রশাসনের কাছে লিখিত অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মঞ্চ বাঁধা বা মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে প্রশাসনিক এই বাধা সত্ত্বেও রাস্তা থেকেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রের খবর, নিরাপত্তা ও নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক কারণেই রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং সেই কারণেই মঞ্চ তৈরির প্রস্তুতি বন্ধ করা হয়েছে।

কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিরোধী কণ্ঠস্বর রোধ করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের জেরে আগামী দিনে কলকাতা তথা সমগ্র রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব পড়তে পারে। গণতান্ত্রিক অধিকারের দোহাই দিয়ে তৃণমূল যেখানে আন্দোলনের অনড় অবস্থানে রয়েছে, সেখানে পুলিশের এই নিষেধাজ্ঞা প্রশাসনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে। এই ঘটনার জেরে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে নির্ধারিত ধর্না কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কীভাবে রূপ নেয় এবং এর প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল আগামী দিনে কী ধরনের বৃহত্তর আন্দোলনে নামে, তার ওপরেই নির্ভর করছে রাজ্যের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *