ঋতব্রত-সন্দীপন বহিষ্কার, হঠাৎ শুভেন্দুকে ধন্যবাদ কুণালের! নেপথ্যে কী কারণ?

দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হলেন দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের এক মাস কাটতে না কাটতেই এই দুই নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে শাসকদল। এই বহিষ্কারের পরই দলত্যাগী ও বিদ্রোহী বিধায়কদের তীব্র আক্রমণ করেছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। একই সঙ্গে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আনার জন্য বিরোধী শিবিরের অন্যতম মুখ শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।
আক্রমণের নেপথ্যে কুণাল ঘোষের যুক্তি
বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান, দলের প্রতীকে জিতে আসার পর এই ধরনের আচরণ চরম বিশ্বাসঘাতকতা। তাঁর মতে, দলের নীতি বা নেতৃত্ব নিয়ে কোনো ক্ষোভ বা আপত্তি থাকলে তা দলের অভ্যন্তরীণ ফোরামে আলোচনা করা উচিত ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও দলের প্রতীক ব্যবহার করে বিধায়ক হওয়ার পর, দলের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে গোপনে প্রতিপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো বা স্পিকারের দ্বারস্থ হওয়াকে তিনি ‘কাপুরুষতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যারা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বা দূরত্ব তৈরি করছেন, তাঁদের এই সুবিধাবাদী অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবে তীব্র নিশানা করেছেন তিনি।
শুভেন্দুকে ধন্যবাদ এবং রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূলের অভ্যন্তরে এই বিদ্রোহের বিষয়টি প্রথম সামনে নিয়ে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রতিপক্ষের নেতা হওয়া সত্ত্বেও এই সত্যটি প্রকাশ্যে আনার জন্য শুভেন্দুকে প্রকাশ্যেই ধন্যবাদ জানান কুণাল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বহিষ্কারের ফলে বিধানসভায় তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে ৭৮-এ দাঁড়িয়েছে। এর ফলে শাসকদলের অন্দরে যেমন এক ধরনের সাংগঠনিক চাপ তৈরি হলো, তেমনই এই ঘটনা প্রমাণ করে যে দলের অভ্যন্তরে এখনো এক গভীর অসন্তোষ ও সমন্বয়ের অভাব রয়ে গেছে। কুণাল ঘোষের এই বিস্ফোরক মন্তব্য এবং শুভেন্দুকে দেওয়া ধন্যবাদ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।