কন্যাসন্তান জন্মানোয় আপত্তি, স্ত্রীকে ওষুধ খাইয়ে খুনের চেষ্টায় গ্রেপ্তার এসএসকেএমের নামী চিকিৎসক

চিকিৎসা জগৎকে কালিমালিপ্ত করে নরেন্দ্রপুরে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় নিজের স্ত্রীকে লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং ওষুধ খাইয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন এসএসকেএম হাসপাতালের গ্যাসট্রো বিভাগের নামী চিকিৎসক কৌশিক মুখোপাধ্যায়। নির্যাতিতা স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করলে বিচারক তাকে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার নেপথ্যে পরকীয়া ও কন্যাসন্তান নিয়ে বিবাদ
নির্যাতিতা স্ত্রী সহেলি সরকারের দাবি, বিয়ের প্রথম দিকে সব ঠিকঠাক থাকলেও তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসকের আসল রূপ সামনে আসে। কৌশিক বারবার তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং আইন বহির্ভূতভাবে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ করান। গর্ভস্থ সন্তান কন্যাসন্তান জানার পর থেকেই অত্যাচারের মাত্রা চরম আকার ধারণ করে। শুধু তাই নয়, কৌশিক মুখোপাধ্যায় এসএসকেএমেরই অপর এক চিকিৎসক শিবাঙ্গী সেনগুপ্তের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ।
সুপরিকল্পিত অপরাধ ও প্রভাব
অভিযোগ, পেশাগত বিদ্যাকে অপব্যবহার করে স্ত্রীকে চক্রান্তমূলকভাবে খুনের চেষ্টা করেছিলেন ওই চিকিৎসক। নির্যাতিতাকে জোরপূর্বক মনোরোগের ওষুধ খাইয়ে পাগল প্রমাণ করার চেষ্টা করা হচ্ছিল, যাতে সহজেই বিবাহবিচ্ছেদ পাওয়া যায়। সাড়ে চার বছরের কন্যাসন্তানেরও কোনো দায়িত্ব নেননি ওই চিকিৎসক। এই ঘটনার জেরে সমাজে চিকিৎসকদের মানবিক ভাবমূর্তি যেমন ধাক্কা খেয়েছে, তেমনই উচ্চশিক্ষিত সমাজের একাংশের মধ্যে কন্যাসন্তান নিয়ে প্রাচীন ও বিকৃত মানসিকতা পুনরায় প্রকাশ্যে এসেছে। পুলিশ আপাতত ধৃত চিকিৎসককে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই চক্রে অন্য কারোর মদত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে।