৩২ বছরেই মন্ত্রী! ছাত্র আন্দোলনের মুখ বিরাজ বিশ্বাসে আস্থা শুভেন্দুর

৩২ বছরেই মন্ত্রীসভায় অভিষেক, উত্তরবঙ্গের নতুন রূপকার বিরাজ বিশ্বাস
রাজ্যের প্রথম ডবল ইঞ্জিন সরকারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে নতুন চমক নিয়ে এলেন উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির নবনির্বাচিত বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস। সোমবার লোকভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন ৩২ বছর বয়সী এই তরুণ তুর্কি। এর মাধ্যমে রাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়লেন তিনি, পাশাপাশি ২০৭ জন বিজেপি বিধায়কের মধ্যেও বয়সের বিচারে তিনি সবার শীর্ষে।
সংগ্রাম ও ছাত্র রাজনীতির সফল উত্তরসূরি
আইনজীবী হিসেবে পরিচিত বিরাজ বিশ্বাসের উত্থান মূলত দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক লড়াই ও রাজপথের আন্দোলনের ফসল। ছাত্রজীবন থেকেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের আদর্শে অনুপ্রাণিত বিরাজ অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) রাজ্য সম্পাদক হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দেন। পরবর্তীতে সংগঠনের সর্বভারতীয় সম্পাদকের গুরুদায়িত্বও সাফল্যের সাথে সামলেছেন তিনি। তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল দাড়িভিটের ছাত্র আন্দোলন। উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ওই আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তাঁকে একাধিকবার কারাভোগ করতে হয়েছে। শাসকদলের দমনপীড়নের মুখেও নিজের অবস্থান অটুট রেখে তিনি উত্তরবঙ্গের তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যতের সমীকরণ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে করণদিঘি কেন্দ্রে প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা গৌতম পালকে পরাজিত করে তাক লাগিয়ে দেন বিরাজ। এই বিশাল জয় কেবল তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়, বরং উত্তরবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিরও ইঙ্গিত দেয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে আইন নিয়ে পড়াশোনা এবং রাজপথের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা—এই দুইয়ের সমন্বয়ে বিরাজের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল স্তরের এই তরুণ নেতার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।