ফ্যাসিবাদীদের মুখোশ খসে পড়ছে, অভিষেকের ওপর ডিম হামলার পর বাংলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক

ফ্যাসিবাদীদের মুখোশ খসে পড়ছে, অভিষেকের ওপর ডিম হামলার পর বাংলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ডিম হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে উত্তাল রাজ্যের রাজনীতি। সর্বত্রই এখন এই বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা চলছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই শাসকদলের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলার সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন তৃণমূলের বর্তমান মুখপাত্র তথা প্রাক্তন বাম নেতা প্রতীক উর রহমান। জার্মান পাদ্রী মার্টিন নিম্যোলারের বিখ্যাত ফ্যাসিবাদের বিরোধী কবিতার লাইনকে হাতিয়ার করে তিনি সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “ফ্যাসিবাদীদের মুখোশ খসে পড়ছে।”

বিপন্ন সময়ে অনড় অবস্থান

দীর্ঘদিন বাম রাজনীতির প্রথম সারিতে থাকা এবং একাধিকবার ভোটে লড়া প্রতীক উর রহমান গত ফেব্রুয়ারিতে সিপিএম ত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁর এই দলবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কম সমালোচনা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যে তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটাই বদলে গেছে। দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই যখন বহু জয়ী বিধায়ক দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠক এড়াচ্ছেন এবং একাধিক নেতা প্রকাশ্যেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, ঠিক তখনই দলের প্রতি নিজের আনুগত্য বজায় রাখলেন প্রতীক উর। কঠিন সময়েও তৃণমূলের পাশে থাকার যে বার্তা তিনি সামাজিক মাধ্যমে দিয়েছিলেন, অভিষেকের ওপর হামলার পর তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।

হামলার নেপথ্য কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণ বদলে গেছে। এই পরাজয়ের সুযোগ নিয়ে বিরোধী শিবির বা ক্ষুব্ধ কোনো গোষ্ঠী শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর এভাবে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করছে, যা এই হামলার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতীক উর রহমান মার্টিন নিম্যোলারের কবিতার সূত্র ধরে বোঝাতে চেয়েছেন, আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা দেখে যারা চুপ করে আছেন, আগামী দিনে ফ্যাসিবাদের থাবা তাদের ওপরও পড়তে পারে।

এই ঘটনার প্রভাব বাংলার রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হতে পারে। একদিকে যখন দলের পুরনো ও প্রভাবশালী নেতারা দূরত্ব তৈরি করছেন, তখন প্রতীক উরের মতো নবাগত নেতার এই দৃঢ় অবস্থান দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল জোগাতে সাহায্য করবে। তবে এই হামলার পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি আরও উগ্র রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *