মমতা-যুগের ইতি, নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি পাড়ি শুভেন্দুর

মমতা জমানার বয়কট অতীত, নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিয়ে রাজ্যের দাবি আদায়ে মরিয়া শুভেন্দু
বাংলার প্রশাসনিক মানচিত্রে পালাবদলের পর এবার নতুন সুর। দীর্ঘদিনের নীতি আয়োগ বয়কটের পথ থেকে সরে এসে আগামী ১১ জুন দিল্লিতে আয়োজিত বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম বড় জাতীয় স্তরের বৈঠক, যা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দপ্তরের রিপোর্ট তলবে স্বচ্ছতার ইঙ্গিত
দিল্লির বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি দপ্তরের সচিবদের কাছ থেকে বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্যের সামগ্রিক আর্থিক ও পরিকাঠামোগত অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিয়ে তিনি নীতি আয়োগের দরবারে হাজির হতে চান। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্বতন সরকারের আমলে নীতি আয়োগের বৈঠকে অনুপস্থিতির কারণে বাংলা দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় বঞ্চনার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ ছিল। এবার সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কেন্দ্রের কাছ থেকে বকেয়া অর্থ ও বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা আদায়ে সক্রিয় হতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
আর্থিক সংকট কাটাতে কেন্দ্রের সহায়তায় নজর
নতুন সরকার গঠনের পর আগামী মাসের শেষদিকে বাজেট পেশ করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই বাজেটে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ছড়াছড়ি থাকার সম্ভাবনা থাকলেও রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে কেন্দ্রের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পে রাজ্যের বিপুল খরচের বোঝা কমাতে কেন্দ্রীয় অনুদানের হার বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের সুবিধাগুলো সঠিকভাবে বাংলায় কার্যকর করাটাই এই সফরের মূল লক্ষ্য হতে পারে।
অশোক লাহিড়ীর উপস্থিতি ও রাজনীতির নতুন সমীকরণ
এই বৈঠকের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্ষীয়ান অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীর নিয়োগ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক থাকায় কেন্দ্রীয় সহযোগিতার নতুন পথ প্রশস্ত হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের সংঘাতের পথ ছেড়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসে রাজ্য কীভাবে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।