অভিষেককে হত্যার ছক! বিজেপিকে তুলোধোনা করে দিল্লিতে বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মমতার

‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুনের চেষ্টা’, বিজেপি-র বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ তুলে দিল্লি আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মমতার
সোমবার ১ জুন, ২০২৬, বিজেপি-র বিরুদ্ধে দলের নেতাদের উপর আক্রমণ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুনের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি পরিকল্পনা করেই তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের নিধনের চক্রান্ত করছে। একই সঙ্গে, কলকাতায় দলীয় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশের অনুমতি না মেলায় তিনি প্রয়োজনে দিল্লি গিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
বিজেপি-র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস মঙ্গলবার কলকাতার রানি রাসমণি রোডে একটি প্রতিবাদ সভার অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি। এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সরাসরি বিজেপি-কে নিশানা করে বলেন, “আপনারা অভিষেক এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুনের চেষ্টা করেছেন।” সোনাইপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা এবং হুগলিতে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করার ঘটনাগুলোকেও তিনি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দমনপীড়নের অভিযোগ ও প্রতিরোধের ডাক
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের রাজনৈতিক কাজকর্মে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের প্রায় ২,৫০০টি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে, এমনকি ঈদগাহ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কব্জা করার চেষ্টা চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কঠোর ভাষায় বলেন, “আজ যারা দাবি করছে যে দলের নেতারা কর্মীদের পাশে নেই, তারা মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। এখানে হিটলারি শাসন চলছে।”
তিনি আরও বলেন, বিধায়ক ও সাংসদদের ভয় দেখিয়ে বা ঘুষ দিয়ে তৃণমূলকে দুর্বল করা যাবে না, বরং এই চাপের মুখে দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। কলকাতা পুলিশ অনুমতি না দিলেও তিনি যে কোনো মূল্যে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন এবং প্রয়োজন হলে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির মঞ্চ দিল্লি পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।