দল ভাঙাতে ব্যর্থ হবে টাকা আর পেশিশক্তি, জাল সই কাণ্ডে সাফ বার্তা মমতার

ভোটে হারের পর বঙ্গ রাজনীতির ময়দানে ক্রমশ ব্যাকফুটে চলে যাওয়া তৃণমূল শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ইতিমধ্যেই বহিষ্কৃত হয়েছেন ঋতব্রত ও সন্দীপন। এই জাল সই কাণ্ড ও অভ্যন্তরীণ ডামাডোলের আবহেই এবার বিজেপি এবং পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে দল ভাঙার চেষ্টার অভিযোগ তুলে তীব্র সরব হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল সভা এবং পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভয় দেখিয়ে, গ্রেফতার করে বা নির্বাচনী কারচুপির আশ্রয় নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করা যাবে না। কোনো রকম টাকা বা পেশিশক্তি দিয়ে তাঁর দলকে ভাঙা সম্ভব নয় বলেও সাফ বার্তা দিয়েছেন তিনি।
নেতাকর্মীদের ওপর চাপ ও দল ভাঙানোর রাজনীতি
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, বিরোধীরা এবং প্রশাসনের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে তাঁর দলের বিধায়ক ও নেতাকর্মীদের ওপর যৌথভাবে মানসিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি সুর চড়ান। ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এর আগে একাধিক বিজেপি নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে তিনি নিজে তাঁদের সাহায্য করেছিলেন, অথচ আজ তাঁরাই তৃণমূলকে ভাঙার নোংরা খেলায় মেতেছেন। রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক বিধায়কের বেসুরো মন্তব্য যখন শাসক শিবিরকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে, ঠিক তখনই দলের রাশ শক্ত হাতে ধরে রাখতে এই কড়া বার্তা দিলেন দলনেত্রী।
জোড়া হামলার জেরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি
বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে তৃণমূলের দুই শীর্ষ সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আচমকা হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। দলীয় সূত্রের খবর, এই হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চিকিৎসকদের পরামর্শে বর্তমানে তিনি তাঁর বাসভবনেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনাও রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও কলুষিত করে তুলেছে। এই জোড়া হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
তীব্র ক্ষোভ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের ওপর এই আকস্মিক হামলার জেরে রাজ্যজুড়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতেও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ভোটের ধাক্কা ও দলের ভেতরের অসন্তোষ, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভা গঠন—সব মিলিয়ে তৃণমূলের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। এই পরিস্থিতিতে মমতার এই আক্রমণাত্মক অবস্থান একদিকে যেমন কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা, অন্যদিকে তেমনই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং শাসক-বিরোধী সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলবে।