চূড়ান্ত হল পুরীর রথযাত্রা ও স্নান পূর্ণিমার নির্ঘণ্ট, তুঙ্গে প্রস্তুতি

চূড়ান্ত হল পুরীর রথযাত্রা ও স্নান পূর্ণিমার নির্ঘণ্ট, তুঙ্গে প্রস্তুতি

বিশ্বখ্যাত পুরীর স্নান পূর্ণিমা ও রথযাত্রা উৎসবের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের মুখ্য প্রশাসক অরবিন্দ কে পাধি জানিয়েছেন, আসন্ন উৎসবের পুজো অর্চনার নিয়মকানুন ও সময়সূচি চূড়ান্ত করতে একটি জরুরি বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। উৎসব যাতে সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য সমস্ত রকম প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমের কথা মাথায় রেখে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে বিশেষ জোর দিচ্ছে মন্দির প্রশাসন। উৎসবের প্রস্তুতির ব্যাপকতার কারণে আপাতত রত্নভাণ্ডারের জিনিসপত্র গণনার কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, যা উৎসব মিটলে আবারও শুরু হবে।

ঐতিহ্যবাহী উৎসবের গুরুত্ব ও আধ্যাত্মিক যাত্রা

ওড়িশার পুরী শহরের এই বার্ষিক রথযাত্রা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ। এই উৎসবে ভগবান জগন্নাথ, ভগবান বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রাকে তাঁদের মূল মন্দির থেকে তিনটি বিশাল ও সুসজ্জিত রথে করে গুন্ডিচা মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়, যা তাঁদের মাসির বাড়ি হিসেবে পরিচিত। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি ভগবান জগন্নাথের নিজের জন্মস্থানে যাওয়ার যাত্রা। দ্বাদশ শতকে রাজা অনন্তবর্মণ চোড়গঙ্গ দেবের নির্মিত কলিঙ্গ স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন এই শ্রী জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় আবেগের জোয়ার আসে।

উৎসবের প্রভাব ও মূল রীতিনীতি

রথযাত্রার মূল আকর্ষন হল তিন দেবতার বিশাল রথ—ভগবান জগন্নাথের ‘নন্দীঘোষ’, ভগবান বলভদ্রের ‘তালধ্বজ’ এবং দেবী সুভদ্রার ‘দর্পদলন’। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত এই রথের দড়ি টানার পুণ্য অর্জনের জন্য পুরীতে ভিড় জমান। গুন্ডিচা মন্দিরে এক সপ্তাহ কাটানোর পর দেবতারা আবার মূল মন্দিরে ফিরে আসেন, যাকে ‘বহুদা যাত্রা’ বা ফিরতি যাত্রা বলা হয়। এই উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল ‘অধরাপানা’ রীতি, যেখানে রথের ওপরেই দেবতাদের বিশেষ মাটির পাত্রে দুধ ও চিনির পবিত্র পানীয় নিবেদন করা হয় এবং পরে তা ভেঙে ফেলা হয়। এই উৎসবের ফলে প্রতি বছর পুরীর পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, যার কারণে এবারও প্রশাসন কোনো খামতি রাখছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *